মানুষের উৎসবের বলি নিরীহ জলজ প্রাণী, উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 4 November 2019

মানুষের উৎসবের বলি নিরীহ জলজ প্রাণী, উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা






রবীন্দ্র সরোবরের দূষণ নিয়ে রাজ্য সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত। নিয়ম ভঙ্গ হলে বড় মাপের আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিল আদালত। রবীন্দ্র সরোবরে বেড়ে চলা দূষণ রোধে ছট পুজোয় সরোবর বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেইমত উদ্যান বন্ধের নির্দেশিকাও জারি করেছিল কলকাতা পুরসভা।



কিন্তু এসব সত্ত্বেও শনিবার সকালে সেই নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত ‘বুড়ো আঙুল’ দেখিয়ে গেটের তালা ভেঙে রবীন্দ্র সরোবর দখল করে বহিরাগতরা। আর তাতেই দূষণ হয় সরোবরে। মাছ, কচ্ছপ ভাসতে দেখা যায় জলে। এখন এই দূষণের জল কতদূর গড়ায় তাই দেখার।


মাছ ও কচ্ছপের মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত পরিবেশবিদেরা। চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে রবীন্দ্র সরোবরের জলের মান পরীক্ষা করেছিল রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মাপকাঠি অনুযায়ী, সেই পরীক্ষায় জলের মান ‘সি’ এসেছিল অর্থাৎ প্রথাগত পদ্ধতিতে পরিশোধন ও জীবাণুনাশের পরে যে উৎসের জল পানযোগ্য। সরোবরে ছটপুজো হওয়ার পরে সেই জলের মান এখন কোন ‘ক্যাটেগরি’-তে যাবে, আপাতত তা নিয়েই চিন্তায় পরিবেশবিদেরা।


তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় পরিবেশ আদালতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে যে হলফনামা জমা দিয়েছিল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, সেখানে উল্লেখ ছিল রবীন্দ্র সরোবরের জলের মান ‘সন্তোষজনক’। গত বছর ছটপুজো থেকে প্রতি মাসে এক বার করে সরোবরের জল পরীক্ষা করেছিল রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। তার ওপরে ভিত্তি করেই কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ ওই রিপোর্ট দাখিল করেছিলেন। কিন্তু গত দু’দিনের দূষণে সরোবরের জলের মান খারাপ হয়েছে বলেই আশঙ্কা পরিবেশকর্মীদের। আর সে কারণেই মারা গেছে মাছ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad