সুদেষ্ণা গোস্বামীঃ দেবী দুর্গার কৈলাস যাত্রার পরে কিন্তু ধরাধামে থেকেই যান মা লক্ষ্মী।তাই বিজয়াদশমীর পর আমরা লক্ষ্মীপুজো করে থাকি। মা লক্ষ্মী ধনসম্পত্তি সমৃদ্ধি ও শান্তির দেবী । মা লক্ষ্মী কিন্তু খুব অল্পতেই সন্তুষ্ট হন ।পূজা করতে খুব একটা ব্যয় আমাদের করতে হয় না। তবে ভক্তি ও নিষ্ঠা পুরোপুরি থাকা প্রয়োজন। আপনি যদি নিষ্ঠাভরে মা লক্ষ্মী পুজো করতে পারেন তবে ঘরের সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি হবেই হবে। যখন আপনি মা লক্ষ্মীর মূর্তি কিনবেন বা ছবি কিনবেন তখন খেয়াল রাখবেন মা লক্ষ্মী যাতে পদ্ম ফুলের উপর বসে রয়েছেন এবং লক্ষ্য করবেন যেন তার পা বেরিয়ে না থাকে।
লক্ষ্মীর গৃহে দাঁড়ানো ,পা দেখা যায় তাহলে সেই গৃহ শান্তি থাকে না। খেয়াল করবেন তাদর হাত যেন আশীর্বাদস্বরূপ থাকে। লক্ষ্মী পুজোর আগে সংগ্রহ করুন তামার পাত্র ,মাটির ঘর এবং আরও কিছু উপকরণ। লক্ষ্মী দেবীর আরাধনার আগে আলপনা দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মা লক্ষ্মীর আল্পনাতে ধানের শীষ, পদ্মফুল অবশ্যই যেন থাকে। আলপনার প্রতিটি মাঝে মাঝে যেন লক্ষ্মীর চরন থাকে। চরণ যেন গৃহের বাইরে অভিমুখে না হয়। যেন গৃহের ভিতরের দিকে অবস্থান করে। তামার পাত্র ও মাটির ঘর দুটিতে গঙ্গাজল ভোরে সূর্য দেবতার স্মরণ করবেন। জল ভরার পর লক্ষ্মী দেবীর সামনে বসাবেন।
তবে তামার পাত্র না থাকলেও ঘট প্রতিস্থাপন করলেই হবে এবং ঘট যেন মাটির ঢেলার উপর বসে সেটি খেয়াল রাখবেন এবং লক্ষ্মী প্রতিমা যেখানে রাখবেন সেখানে যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে আলপনা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। লক্ষ্মী দেবীর সামনে বড় করে চরণদ্বয় থাকে।ঘটের উপর সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিকা চিহ্ন এবং আম পাতার শাখা দেবেন এবং খেয়াল রাখবেন যাতে পাতাগুলি বিজোড় থাকে। 5 টাকা তাহলে সব থেকে ভালো হয়এবং আলপনার আম পাতার উপর তেল ও সিঁদুরের ফোটা দেবেন আর উক্ত আম পাতার উপর কিছু হরিতকী, দূর্বা ,কাঁচা হলুদ,আতপ চাল ,চন্দন সহযোগে নিবেদন করুন । এরপর আপনি মায়ের উদ্দেশ্যে তৈরি করা নৈবেদ্য তা মায়ের সামনে অর্পণ করুন তবে তা কাঁসার থালার উপর দিন।
নৈবেদ্যের মধ্যে ফল ,মিষ্টি ,নাড়ু অবশ্যই দেবেন। লক্ষীর সাথে একটি গণেশের মূর্তি সংগ্রহ করে রাখুন। এবার মা লক্ষ্মী কে ফুল ও দূর্বা দিন। প্রদীপ ,শঙ্খ ও ধূপ ধুনো দিয়ে পূজা ক্রিয়া শুরু করুন। যাত্রা শুরু করার আগে তিনবার শঙ্খ বাজাবেন। বিষ্ণু, ইন্দ্র, কুবের সূর্য দেবতা কে স্মরণ করে লক্ষ্মীর পাঁচালী ও ব্রত কথা পড়বেন। পাঁচালী পড়ার পর আপনি আপনার মনোবাঞ্ছা তাকে বলবেন। তাকে বলবেন আপনার গৃহে যেন তিনি আলো করে থাকেন। এরপর লক্ষ্মী দেবীর সামনে কিছু ধান এবং এক চিমটি মাটি রেখে দিন।
এরপর মাকে প্রণাম জানিয়ে কিছু সময়ের জন্য দরজা বন্ধ করে দিন। কিছুক্ষণ পরে মায়ের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা মায়ের প্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিলিয়ে দিন। পাশাপাশি দিন দুঃখীদের বিতরণ করতে ভুলবেন না।যদি সম্ভব হয় আপনি দুঃখিদের কেএই দিনে অন্ন ,বস্ত্র বিতরণ করতে পারেন। লক্ষ্মী পুজোতে কখনোই কাঁসার ঘণ্টা বাজানো যায়না কারণ তিনি চঞ্চলা দেবী এবং তিনি কাঁসার ঘণ্টা পছন্দ করেন না।লক্ষ্মী পুজো তে তুলসী পাতার ব্যবহার করবেন না তবে লক্ষীদেবী পাশে যে নারায়ন মূর্তি থাকে সেখানে তুলসী পাতা ব্যবহার করুন।
পি/ব
No comments:
Post a Comment