প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক ; আজ যাওয়া যাক চিতোরগড়৷ প্রধান উদ্দেশ্য চিতোরগড় দূর্গ বা চিতোর দূর্গ — এই সুবিশাল দূর্গ প্রায় ৬৯১.৯ একর জমি জুড়ে একটি পাহাড়ের উপর অবস্হিত যার প্রতিটা কোন বর্ণনা দেয় রানী পদ্মাবতীর আত্মত্যাগের ও আলাউদ্দিন খিলজির বিধ্বংসতার৷ আরে না না, রণবীর - দীপিকার 'পদ্মাবৎ' এর গল্প বলবো না৷ চিতোরগড়ের আসল নাম 'চিত্রাকুটা' প্রতিষ্ঠাতা 'চিত্রাঙ্গা'- এক স্হানীয় 'মোরি' রাজবংশের রাজা৷
ইতিহাস বলে ৭২৮ বা ৭৩৪ খ্রীঃ পূঃ বাপ্পা রাওয়াল নামক মেবারের রাজা এই দূর্গ দখল করেন৷ আবার শোনা যায় তিনি নাকি এই দূর্গ বিবাহে যৌতুক হিসাবে পেয়েছিলেন৷ সেই থেকে চিতোর হল মেবারের রাজধানী৷ চিতোরের রানা রতনসিংহের সময় আলাউদ্দিন খোলজির কোপে সুন্দরী চিতোরদূর্গ একটি ধংস্বস্তূপে পরিণত হয়৷ আজও এই দূর্গের প্রতিটা দেওয়াল, ভাঙাচোড়া স্তূপ, স্তম্ভ আপনাকে মনে করাতে বাধ্য রাজপুত রতনসিংহের লড়াই আর রানী পদ্মাবতীর 'জহর' ব্রত পালন৷ চিতোরগড় দূর্গের বেশিরভাগ স্হান পর্যটকদের জন্য খোলা বা প্রবেশযোগ্য ফলে ইতিহাসকে উপলদ্ধি করা খুবই সহজ৷ এই জন্যেও চিতোর আমার খুব প্রিয়৷
এরপর দেখা যায় 'বিজয়স্তম্ভ' বা কীর্তিস্তম্ভ' , যা তৈরী ১৪৪৮ সালে রানা কুম্ভের আমলে ৷ মাহমুদ খিলজি , মালওয়া ও গুজরাটের আক্রমনকে রানা কুম্ভ প্রতিরোধ করেন এবং কীর্তিস্বরূপ এই স্তম্ভটি নির্মান করেন ৷ লাল বেলেপাথর ও সাদা মার্বেলের ৯তলার এই স্তম্ভটি প্রায় ৩৭.১৯ মিটার৷ অষ্টম শতাব্দীর 'কালিকামাতা মন্দির' , এছাড়া ষোড়শ শতাব্দীর 'মীরা মন্দির' র অভূতপূর্ব স্থাপত্যকার্য , 'গোমুখকুন্ড', 'পদ্মীনিমহল', 'কুম্ভপ্যালেস' — সব মিলিয়ে এক থেকে দেড়দিন যথেষ্ট রানী পদ্মীনির (পদ্মাবতীর) দেশের জন্য ৷
No comments:
Post a Comment