সুদেষ্ণা গোস্বামী:
সন্তানকে গর্ভধারণ করা থেকে তাকে প্রতিপালন করা অনেক বেশি কঠিন কাজ।তাই সন্তান প্রতিপালন করার ক্ষেত্রে পিতামাতাদের খুবই আন্তরিক হতে হয়।আপনার কিছু কিছু কথা আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর ভাবে সাজিয়ে দিতে পারে আবার কিছু কিছু কথা পুরোপুরি তাকে উলটপালট করে রেখে দিতে পারে। তাই যে কথাগুলো সন্তানকে উল্টো পথে ধাবিত করতে পারে সেগুলো আপনি বলবেন না সেগুলো নিয়ে আজ আলোচনা করব।
১) তোমার বয়সে আমি আরো দায়িত্বশীল ছিলাম:
কথাটি বলবেন না।
এটি বলাতে তার মধ্যে কুপ্রভাব করতে পারে তার নিজের প্রতি আস্থা হারাতে পারে। তাই তুলনা একদম করবেন না।
২)তুমি সব সময় ভুল সিদ্ধান্ত নাও:
আপনার সন্তানকে কখনো তার অপরিণত থাকার বিষয়ে বলবেন না।
প্রতিটি মানুষই ভুল করতে পারে আর সে ভুলকরতে করতেই শিখবে এটাই নিয়ম। বরং তাকে সঠিক পথ দেখান কখনোই আপনার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেন না।
৩) তোমার ভাই বা বোনের মতো হও এটা কখনো বলবেন না:
সবাই এক ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না। নিজে বলি সে এক এক রকমের হয়ে থাকে। বরং তাকে বলুন আরও ভালো করার বিষয়ে ভালোভাবে বুঝান।
৪) আমাকে একা থাকতে দাও বলবেন না:
সন্তানরা অনেক সময় অবিভাবকদের এই একা থাকার ব্যাপারটা মেনে নিতে পারে না। কারণ তাদের মাথায় দুশ্চিন্তা তো ঘুরপাক খায় না। শিশুমন খুব নরম হয়। তাকে বুঝিয়ে বলে কিছুক্ষণ সময় দিয়ে নিজে একা থাকার চেষ্টা করুন কিছুক্ষণের জন্য। শিশুমন অবহেলিত বোধ করে এবং অসহায় হয়ে পড়ে তাই সহনশীল হন।
৫)এই কাজের জন্য তোমার লজ্জা হওয়া উচিত:
এটি সন্তানের উপর বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।সে খারাপ কাজ করতে পারে আর না বুঝেই এটি করে থাকতে পারে সন্তানকে ভালো-মন্দ বোঝানোর জন্য আপনাকে অনেক কোমল হতে হবে।
৬)তুমি সবসময় আমাকে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করো:
পিতা-মাতার কথা চিন্তা না করে তার বাইরে গিয়ে অনেক সময় সন্তান তাদের কষ্ট দেয়। বুঝতে না পেরে এটি তারা করে থাকে অথবা আপনি যেভাবে ভাবছেন সে ভিন্নভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছে। এর ফলে সে সিদ্ধান্ত নিতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে । প্রয়োজনে তার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আপনি নমনীয় ভাবে মতামত দিতে পারেন।
৭) তোমার মত সন্তান না থাকাই ভালো:
উপরের এই কথাটি সন্তানের আবেগে ভীষণ খারাপ প্রভাব ফেলে। এটি সন্তানকে বললে তাদের হৃদয় ভেঙে যায়।তাদের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে । খারাপ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।
৮) খারাপবন্ধুদের এড়িয়ে চলো:
শিশুদের জগত তাদের বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে তৈরি হয়। সারাজীবন তো আপনি পাহারা দিতে পারবেন না। তাই তাদের দুই ধরণের বন্ধুদের সাথে মিশতে দিন। ধীরে ধীরে সে ভালো-মন্দের বিচার করতে শিখবে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment