নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জলসা ঘরের বিশ্বম্ভর রায়কে মনে পড়ে?
ছবি বিশ্বাসের সেই অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকা!
যার কথা বলছিলাম, তিনি একজন বিদুষী মহিলা। বাংলায় সাম্মানিক। নাম বেলা চট্টোপাধ্যায়। এখন বয়স প্রায় সত্তর ছুঁই ছুঁই। কিন্তু মন এখনও ষোড়শীর। গ্রামে নিজের বাড়িতে নতুন প্রজন্মের মেয়ে ও মহিলাদের নিয়ে নাটকে রিহার্সাল ও একই সাথে জমিয়ে আড্ডাও দিয়েছেন।
সামাজিক নাটক অভাগীর সংসার। নাটকে বিনতার মেয়ে রাখীর সাথে সৌদামিনীর ছেলে অজয়ের বিয়ে হবে। কিন্তু রাখীর সঙ্গীত শিক্ষক পাড়ার পল্টুর সম্পর্ক ভালোলাগা পর্যন্ত এগিয়েছে। সিদ্ধেশ্বরী পাড়ায় কুটকাচালিতে ওস্তাদ। কথা চালাচালি করে ওই মহিলা রাখীর সাংসারিক জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। সিদ্ধেশ্বরীর উদ্দেশ্য ছিল রাখীর বিয়েটা ভেঙে দিয়ে অজয়ের সাথে নিজের ভাইঝির বিয়ে দেওয়া। অন্তিম দৃশ্যে রাখী ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করে। বিধবা সিদ্ধেশ্বরীর কাজ কুটকাচালি তো ছিলই। সে ছিল খুব লোভী। প্রতিবেশী বিনতার লাউ মাচার লাউ শাক ও পালংশাকে তার খুব লোভ। পাড়া বেড়ানো আর অপরের সংসারে অশান্তি লাগানো ছিল সিদ্ধেশ্বরীর কাজ। পঞ্চাশের দশকে পল্লী বাংলার বিধবা খলনায়িকা এই সিদ্ধেশ্বরী।
পুরুষবর্জিত অভাগীর সংসার সামাজিক নাটকে-- নায়িকা রাখীর মায়ের ভূমিকায় - তনুশ্রী দত্ত, রাখীর শাশুড়ি মাতা -দেবযানী চট্টোপাধ্যায়, রাখীর ভূমিকায়- দেবলীনা চট্টোপাধ্যায়, রাখীর বান্ধবী- সিউলি লেট, পাড়ার বৌদির ভূমিকায় -ঝুমু লেট, পাড়ার মেয়ের ভূমিকায়- পুতুল ভট্টাচার্য, খলনায়িকা সিদ্ধেশ্বরীর ভূমিকায়- শ্রাবণী মজুমদার, রাখীর মাসতুতো ননদের ভূমিকায়- দেবিকা রায়, রাখীর সতীনের ভূমিকায়- শ্রেয়া দাস, রাখীর বড় ননদের ভূমিকায় -কেকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখীর বড় ননদের বান্ধবীর ভূমিকায়- চিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখীর ছোট ননদের ভূমিকায়- অনন্যা চট্টোপাধ্যায়।
গ্রামের বৌ শ্রাবণী মজুমদার বলেন, পুজোয় বাপের বাড়ি যেতাম। কিন্তু নাটকের জন্য মন কেমন করে, তাই এই দুর্গা বাপের বাড়ি গেল না, বলেই ফিক করে হেসে ফেলল।
বেলা চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি ছোট থেকে অভিনয় করি। গ্রামের মেয়ে বৌদের নিয়ে নাটক করতে ভালো লাগে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment