দেবশ্রী মজুমদার: সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরেই মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে খুন একই পরিবারের তিনজন। খুনের পিছনে হাত থাকতে পারে জামাইয়ের বন্ধুরও। রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা হারিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাল পরিবার। তাদের দাবি, রাজ্য পুলিশ খুনের কিনারা করতে ব্যর্থ। এখনো পর্যন্ত প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে পারেনি পুলিশ।
জানা গিয়েছে, দশমীর দিন বেলা ১১ টার দিকে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে নিজের বাড়ির মধ্যেই খুন হন একই পরিবারের তিন সদস্য। বীরভূমের রামপুরহাট থানার সিউড়া গ্রামের বাসিন্দা বিউটির বছর আটেক আগে বিয়ে হয়েছিল বন্ধুপ্রকাশ পালের সঙ্গে। বন্ধুপ্রকাশের বাড়িও ছিল সিউড়া গ্রামের পাশে নাইশোর গ্রামে। কিন্তু তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় বন্ধুপ্রকাশের মা দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার বাড়ালা গ্রামে থাকতে শুরু করেন। মৃত বিউটি মণ্ডল ছিল আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
তাদের একমাত্র ছেলে বন্ধুঅঙ্গন পালের বয়স ছিল ছয় বছর। দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে কোন অশান্তি না থাকলেও ননদের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ ছিল বলে বিউটির মা’দের দাবি। এছাড়া জামাইয়ের বন্ধু সৌভিক বনিক ওরফে দীপ ব্যবসা করার জন্য কয়েক লক্ষ টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিতে পারেনি। এনিয়েও অশান্তি চলছিল বলে দাবি তাঁদের। বিউটির মা চন্দনা মণ্ডল বলেন, “দশমীর দিন সকাল ১১ টার দিকে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। ঠিক ছিল একাদশীর দিন তারা সিউড়া গ্রামে আসবে। তারপরেই দুঃসংবাদ পায়”।
চন্দনাদেবীর দাবি, সম্পত্তির জন্যই খুন করা হয়েছে। নিজের লোক না থাকলে এভাবে খুন করা যেত না। দুই ননদ ও শাশুড়ি মেয়ের উপর অত্যাচার করত। সম্পত্তি নিয়ে অশান্তি হত। অশান্তির হাত থেকে বাঁচতে এবং ছেলের পড়াশোনার জন্যই জামাই জিয়াগঞ্জে জায়গা কিনে বাড়ি করে থাকতে শুরু করে। সেই জায়গা নিয়েও অশান্তি করত। শাশুড়ি শুধু দুই মেয়েদের ভালবাসত। ছেলেকে খুব ভালবাসত না। ফলে আমার মেয়েকেও দেখতে পারত না। বিউটির বাবা সুখেন মণ্ডল বলেন, “জামাইদের কয়েক বিঘে জমি রয়েছে।
এছাড়া জিয়াগঞ্জের বাড়িটি ছিল জামাই ও শাশুড়ির নামে। এনিয়েও ননদ ও তাদের স্বামীরা অশান্তি করত। তারা মেয়েকে সপরিবারে খুনেরও হুমকি দিয়েছিল। তাছাড়া জামাইয়ের এক বন্ধু সৌভিক বনিক ওরফে দীপের এই খুনের পিছনে হাত থাকতে পারে। কারণ একটি ব্যবসার জন্য ছয়-সাত লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিল দীপ। সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সুদের টাকা আমাকে পরিশোধ করতে হয়েছে। এনিয়ে ঝামেলা করতে দিতাম না। দেখলাম টাকা যাচ্ছে যাক, জীবনটা তো বাঁচুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচাতে পারলাম না”।
এদিকে এদিনই ঘটনার তদন্তে বিকেলে রামপুরহাট পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্যাস অফিস গলিতে সৌভিকের বাড়িতে আসে মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বরুণ বৈদ্য। তিনি তদন্তে এসে সৌভিকের ঘর থেকে কিছু কাগজপত্র নিয়ে যান। সৌভিকের দাদা সৌরভ বনিক বলেন, “পুলিশ এসে কিছু কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছে। মাস ছয়েক ধরে ভাইয়ের সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই। ফলে ভাই কোথায় আছে বলতে পারব না। পুলিশকেও তাই জানিয়েছি”।
পি/ব
No comments:
Post a Comment