প্রেস কার্ড নিউজ ডেস্ক ; পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রানিয়া গ্রামে পুজোর জামা নিয়ে ঝামেলার জেরে নিজের সন্তাকেই খুনে উদ্যত হলেন মা ! গোটা ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসীও। বারো বছরের ওই কিশোরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা কর্মসূত্রে থাকেন কেরলে। পুজোয় বাড়িতে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন তিনি। ওই কিশোরের মা পাপিয়া দেবী স্বামীর পাঠানো সেই টাকা দিয়ে ধার শোধ করেন। এবং কিছু টাকা দিয়ে ছেলের জামা কিনে দেন।
কিন্তু সেই জামা পছন্দ হয়নি ১২ বছরের সুশোভনের। এরপরেই বাঁধে গণ্ডগোল। মায়ের কাছে ভালো জামা কিনে দেওয়ার আবদার করে সে।; কিন্তু তাতে কোনও কাজ না হওয়ায় নতুন বুদ্ধি করে সে। ফোন করে মামার সঙ্গে কথা বলে নিয়ে অনলাইনেই জামা কেনার বুদ্ধি আঁটে সে। এই জন্য মামার কাছ থেকে ডেবিট কার্ডের নম্বরও জেনে নেয় সুশোভন। এঘটনা জানতে পেরে প্রচণ্ড রেগে যান তাঁর মা পাপিয়া দেবী। সারা পুজোটা ছেলেকে আটকে রাখেন একটা ঘরে। এমনকী ছেলেকে নাকি খেতেও দেন নি তিনি।
দশমীর দিন খিদে সহ্য করতে না পেরে পাশের বাড়িতে ভাত খেতে যায় সুশোভন। আর এতেই মারাত্মক রেগে যান পাপিয়া দেবী। সুশোভনের দাবি, আয়নার ভাঙা কাঁচ দিয়ে ছেলেকে মারতে যান তিনি। আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকায়, সুশোভনের গলার আওয়াজে ছুটে আসে পাড়া প্রতিবেশীরা। এবং সুযোগ বুঝে থানায় পালিয়ে আসে সে। থানায় পৌঁছেই অজ্ঞান হয়ে যায় সুশোভন।
পুলিশের বক্তব্য, সে যখন থানায় পৌঁছায় তাঁর সারা দেহ ছিল ক্ষত বিক্ষত। দেহের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত বার হচ্ছিল। চোখে মুখে জল দিয়ে তাঁর জ্ঞান ফেরানো হলে সব কথা পুলিশকে খুলে জানায় সে। পুলিশ সব কথা শুনে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাঁকে ঘটনা বিস্তৃত জানিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে বলে।অন্যদিকে সুশোভনের পিসি তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে ছেলেকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ প্রয়েই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
পি/ব
No comments:
Post a Comment