লাঠি মেলা দুবরাজপুরে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 10 October 2019

লাঠি মেলা দুবরাজপুরে



দেবশ্রী মজুমদারঃ    লাঠি মেলা দুবরাজপুরে। জিসকা ভেস, উসকা লাঠি!  সেই লাঠি নিয়েই মেলা দুবরাজপুরে। লাঠির সম্ভার নিয়ে এসেছিলেন রফিক মিঞা। তার একচেটিয়া খদ্দের সাধন বন্দ্যোপাধ্যায় এবছরও পছন্দ করে কিনে নিয়ে গিয়েছেন এক জবরদস্ত লাঠি। কেনাবেচার হিড়িক শুরু সেই সকাল থেকে। চলেছে দিনভর। তারপর প্রতিমা নিরঞ্জনের আনন্দ উচ্ছাস, আনন্দ হয়েছে একই চেহারায়।


দু-শোরও বেশী বছর ধরে চলে আসা রেওয়াজে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি এবারও।  বীরভূমের সেই ‘লাঠি মেলা’এবারও আরো একবছর বয়স বাড়িয়েছে আপন বহরে, ঐতিহ্যে। স্রেফ লাঠি কেনাবেচার মেলা বললে ভূল হবে, এ মেলা আখেরে সম্প্রীতির এক অনবদ্য ঠিকানা। গত বুধবার একদশীর দিনেই নিয়ম মেনে মেলা বসেছিল বীরভূমের দুবরাজপুরের কৃষ্ণনগর গ্রামে। যশপুর পঞ্চায়েতের অধীন এই গ্রাম। ইতিহাস বলে, সেই ২৭১ বছর আগে এই মেলার সূচনা। সূচনার প্রেক্ষাপটও ঐতিহাসিক। বর্গী হামলা থেকে বাঁচার তাগিদেই লাঠি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে
এমন সম্প্রীতির মেলার।



বীরভূম এক সময় জেরবার ছিল বর্গী হামলায়। বর্গী হামলা থেকে বাঁচতে একসময় বাড়িতে বাড়িতে লাঠি রাখার রেওয়াজ স্বাভাবিক তাগিদ হয়ে উঠেছিল। সেই সময় এই কৃষ্ণনগর গ্রাম হয়ে উঠেছিল লাঠি সংগ্রহের আখড়া। পরে তা রীতিমত কেনাবেচার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক রূপ নেয়।



এবং ধীরে ধীরে তা চেহারা নেয় মেলার। ঐতিহ্যপ্রাচীন এই মেলা আপন মৌলিকতায় আজও বহমান। বিজয় দশমীর পরদিন হওয়া এই মেলার আনন্দের ভরকেন্দ্র অবশ্যই দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন। আশপাশের মুসলিম অধ্যুষিত জনপদের মানুষজন সকাল থেকেই লাঠি সম্ভার নিয়ে হাজির হন মেলায়। এরপর এক এক করে আশপাশের গ্রামগুলি থেকে দূর্গাপ্রতিমা শোভাযাত্রা সহযোগে মিলিত হয় মেলা প্রাঙ্গনে। আনন্দ, উচ্ছ্বাস, নাচানাচি মধ্য দিয়ে হয় নিরঞ্জন।



 থাকে না জাত-পাতের কোনো বেড়া। ধর্ম, বর্ণ ভুলে মানুষের মিলনকেন্দ্র হয়ে ওঠে ‘লাঠি মেলা’। লোহাগ্রাম, যশপুর, পোছিয়ারা, কান্তোর, সালুঞ্চি সহ এলাকার ১০-১২ টি গ্রামের মানুষ এক হয়ে যান মেলা প্রাঙ্গনে। এলাকার প্রবীন মানুষ কিরিটিভূষণ রক্ষিতের কথায়, ‘‘কৃষ্ণনগরের এই লাঠি মেলার উৎপত্তি বর্গী হাঙ্গামার উপদ্রব থেকে বাঁচতেই। ছোটো থেকেই আমি এই মেলা দেখে আসছি। এই মেলা শুধু লাঠি মেলা নয়, এই মেলা হল সম্প্রীতির মেলা।’’ মেলা প্রাঙ্গনে প্রতিবছরের মত এবছরও হয়েছিল প্রগতিশীল সাহিত্যপত্রের স্টল। ভিড় জমিয়েছিলেন নানা বয়সের মানুষ।



পি/ব

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad