প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক ; এক দেশে থাকে এক রাজা ছিল ও তার ছিল ৬ বউ। রাজা পরপর ৬টি বিয়ে করেছেন কিন্তু কোনো বিবির ঘরেই কোনো সন্তান হয় নি। এই নিয়ে রাজার মনে অনেক দুঃখ। শুধু রাজাই নয়, রাজ্যের সকল প্রজাদের মাঝেও অসন্তোষ। একদিন রাজা স্বপ্নে জানতে পারলেন, আরো একটি বিয়ে করলে সপ্তম বিবির ঘরে আসবে সন্তান। সন্তানের আশায় তিনি বিয়ে করলেন আবার। নতুন বিবি ঘরে এনেছে দেখে আগের ছয় বিবির গায়ে জ্বালা উঠে যায়। আগের রানীদের ছয় জনই খুব অহংকারী, দেমাগী। ছোট রানী খুব শান্ত ও নম্র।
এ জন্য রাজা ছোট রানীকে বেশি ভালোবাসতেন। ফলে ছয় রানীর চোখের বিষ হয়ে যায় ছোট রানী। একদিন খবর আসে ছোট রানী সন্তানসম্ভবা। এই খুশিতে প্রজাদের জন্য রাজকোষ এবং রাজভাণ্ডার খুলে দেন রাজা। সেখান থেকে প্রয়োজন মতো অর্থ ও সম্পদ নিতে পারবে প্রজারা। দেখতে দেখতে জন্মের সময় চলে এলো। আতুর ঘরে রইলেন ছয় রানী এবং একজন গৃহপরিচারিকা। বাইরে সন্তানের মুখ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন রাজা। অজ্ঞান অবস্থায় ছোট রানী সাতটি ছেলে এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। হিংসুটে ছয় রানী চক্রান্ত করে জন্মের পরপরই ছেলেগুলোকে সরিয়ে ফেলে। কাঁচা মাটির পাত্রে ভরে তাদেরকে পুতে দেয় প্রাসাদের পেছনের বাগানে এবং জানায় রাণীর গর্ভে সাতটি ব্যাঙ ও একটি ইঁদুর জন্মগ্রহণ করেছে। রাজা খবর শুনে রেগে গিয়ে ছোট রাণীকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দেন।
এভাবে চলতে থাকে, দিন দিন খাঁ খাঁ করতে থাকে রাজবাড়ি। একদিন রাজ বাগানের মালী এসে জানায় পূজা দেবার জন্য বাগানে যথেষ্ট ফুল নেই। একটি গাছে শুধু সাতটি চম্পা আর একটি পারুল ফুল আছে। রাজা বললেন, এগুলোকেই নিয়ে আসো। মালী ফুল আনতে গেলে তারা হাতের নাগালের বাইরে উপরে উঠে যায়। মালী আবারো ধরতে গেলে বলে, রাজা না আসলে এই ফুল ছিঁড়তে দেবে না। এমন অদ্ভুত ঘটনা শুনে রাজা সাথে সাথে চলে আসলেন। আসার পর তারা আবার জানায়, বড় রানী না আসলে ফুল দেবে না। বড় রানী আসার পর জানায়, মেজ রানী না আসলে দেবে না। মেজ রানী আসলে আবার জানায় সেজ রানীর দাবী। এভাবে সকল রানী আসার পর সাতটি চম্পা ফুল বলে বনবাসে যাওয়া দুঃখী ছোট রানী না আসলে কাউকে ফুল ছিঁড়তে দেয়া হবে না। ঘোড়সওয়ার পাঠিয়ে বন থেকে খুঁজে বের করে আনা হলো ছোট রানীকে।
No comments:
Post a Comment