নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কিছু কিছু সিনেমা থাকে যা বাঙালির মনকে আন্দোলন করে রেখে দেয়। গুমনামি সিনেমা টা একদম ই ধরনে।ভারতীয় রাজনীতিতে অন্যতম বিতর্কিত বিষয় সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্য। সেই রহস্য নিয়ে তৈরি সুজিতের গুমনামি। তবে এই সিনেমা নিয়ে সত্যিই কি এত বিতর্কে প্রয়োজন ছিল।১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট বিমান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল? ঘটনার ৭৪ বছর পরও সেই বিতর্ক আজও থামেনি। পরিচালক সৃজিত অবশ্য সেই বিতর্কে ঢোকেনি।
শুধুমাত্র নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তৈরি তথ্যগুলো সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরে এক ঐতিহাসিক দলিল তৈরি করে রাখলেন। কমিশনের রিপোর্ট কি ছবি তুলে ধরেছেন শ্রীজিৎ। সিনেমাটা দেখে বোঝা গেল এই নিয়ে অযথা বিতর্কের কোন প্রয়োজন ও দরকার ছিল না ।দুই নেতাজি গবেষক অনুজ ধর্ ও চন্দ্রচূড় ঘোষের বই তে নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের বিরুদ্ধে যুক্তি দিয়ে গুমনাম তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। চন্দ্রচূড় এর গবেষণায় নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য কোন দিকে মোড় নিয়ে ছিল সেই দিকটা দারুণভাবে দেখিয়েছেন পরিচালক।
দর্শকরা ছবি দেখবেন রিপোর্টার চন্দ্রচূড়ের চোখ দিয়ে।ছবিতে নেতাজি রাশিয়ায় পালিয়ে যাওয়া তথ্যের পাশাপাশি তার ছদ্মবেশের গল্পটি বেশ দারুন ভাবে দেখানো হয়েছে। শেষটুকু তে যেন খিদেটা মিটলোনা একটা ধোঁয়াশার মধ্যেই রয়ে গেলাম আমরা। তবে যারা নেতাজি কে চেনেন তারা সবাই জানেন নেতাজি আসলে প্লেন ক্রাশে মারা যাননি। সৃজিতের পরিচালনা য় দারুন জোর ছিল।
রঙিন সাদাকালোর মেকওভারে বর্তমান ও ফ্ল্যাশব্যাকে এত সুন্দর ভঙ্গিতে সাজিয়েছেন তিনি তা বলার মত নয়।প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় সম্পর্কে এটুকুই বলার আছে যে তিনি অনেক হোম ওয়ার্ক করেছেন নেতাজির ওপর। তার হাঁটাচলা কথাবাত্রা দেখে মনে হবে সত্যিই যেন নেতাজি সুভাষ কে আমরা সশরীরে দেখছি। সিনেমাটা দেখতে দেখতে প্রত্যেকটা বাঙালির মনে এটাই আসবে যে দৃঢ় নেতৃত্বের অভাব সে যাওয়ার পর আজও আমরা ভোগ করে চলেছি।
পি/ব
No comments:
Post a Comment