দেবশ্রী মজুমদারঃ পাড়ার পুজো কমিটির সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠল প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের দুই ছেলে সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। চারজনকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার মানুষ।
ঘটনাটি ঘটেছে, বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদমারি এলাকায়। ২০০৫ সালে চাঁদমারি আবাসিক বৃন্দ নাম দিয়ে পুজো শুরু করেন মিছু মানুষ। তাদের সহযোগিতা করেন রামপুরহাট পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান অরুপ মুখোপাধ্যায়। প্রথম দিকে অস্থায়ী মণ্ডপ গড়ে পুজো করা হলেও বর্তমানে কংক্রিটের মণ্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। তবু মণ্ডপের বাইরে অস্থায়ী মণ্ডপ করতে হয়েছে নিজেদের বসার জন্য।
চারদিন ধরে নির্বিঘ্নেই কাটে পুজো। দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর বাড়ি ফেরার পথে কমিটির সদস্য ও কর্মকর্তাদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর খুদু পাশোয়ানের দুই ছেলে ও তাদের সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরদ্ধে। তাদের মারধরে আহত হয়ে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুজো কমিটির সম্পাদক শঙ্কর সাহা, কোষাধ্যক্ষ সিটু মণ্ডল, সদস্য পিন্টু রাম এবং বাবু মণ্ডল।
রাতেই তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুবারের কাউন্সিলর ছিলেন খুদু পাশোয়ান। প্রথমে নির্দলে জয়ী হলেও পরে তৃণমূলে যোগদান করেন। ওই এলাকায়এক সময় তাদের রাজ চলত। কিন্তু দিন দিন তাদের দাপট কমতে থাকায় ছেলেদের অত্যাচার বেড়ে যায়। সেই কারণেই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের দুই ছেলে সাবির পাশোয়ান ও পবন পাশোয়ানরা পাড়ার অরূপ মিশ্র, সিরিয়া পাশোয়ান, কার্তিক বেহারা, রাজকুমার মুর্মু, সুজিত পাশোয়ানদের নিয়ে সকলকে মারধর করে বলে অভিযোগ।
পুজো কমিটির সদস্য মিলন চক্রবর্তী বলেন, “রাত্রে সালকা পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর মিষ্টি মুখ করার পর জন্য সম্পাদক শঙ্কর সাহা মণ্ডপে যায়। সে সময় তাকে একা পেয়ে মারধর করে তারা। চিৎকার শুনে আমরা ছুটে গেলে লোহার রড, বাঁশ দিয়ে আমাদেরও মারধর করে। কারণ পুজো চারদিন আমরা দুঃস্থ মানুষদের কাপড় ও খাবার বিতরণ করেছিলাম। এসব দেখে খুদু পাশোয়ানের ছেলেরা ভাবছে গরীব মানুষ গুলো তাদের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে।
ফলে ওদের যে দাপট ছিল তা কমে যাচ্ছে। এই আশঙ্কা থেকেই ওরা মণ্ডপে হানা দিয়ে মারধরের পাশাপাশি মণ্ডপের কাপড় ছিঁড়ে দেয়। এমনকি যাওয়ার আগে মণ্ডপে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়। ওরা ভাবছে আমরা রাজনীতি করছি। কিন্তু আমরা কেউ সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। কাউকে রাজনীতি করার জন্য বাধ্যও করা হয় না। আমরা তাদের আশঙ্কার কারণও হতে চাই না”। খুদু পাশোয়ানের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পি/ব
No comments:
Post a Comment