প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক ; যৌনাঙ্গচ্ছেদ হল বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত থাকা এক প্রথা, যে প্রথা অনুযায়ী নারীর যৌনাঙ্গের বাহ্যিক অংশ সাধারণত একটি ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা হয়। এটি করা হয়, নারীর সতীত্ব রক্ষার কথা বলে। নারী অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'দ্য ফ্যাম' জানিয়েছে, যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার ৬৫ হাজার নারী বর্তমানে জার্মানিতে রয়েছেন৷ ডয়শে ভেল-এর পক্ষ থেকে এমন নারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাঁরা তাঁদের ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন। মহিলার বক্তব্য, 'আমার বয়স তখন বারো বা তের। বেশ কয়েকজন আমাকে চেপে ধরেছিল। তারপর আমার ওটা কেটে ফেলে।
এরপর আমাকে একটি টেবিলের ওপর শুইয়ে রাখে। সেদিনের ছবি এখনো আমার চোখে ভাসে। আমি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলাম৷ এরপর তারা সেখানে সেলাই করে এবং আমার দুই পা একসঙ্গে একমাসের জন্য বেঁধে রাখে যাতে ক্ষত শুকিয়ে যায়।' আরেকজন বলেছেন, 'এসব কেন হচ্ছে জার্মানিতে বুঝতে পারছি না। নারীদের সংখ্যা এদেশে বেড়ে যাচ্ছে বলে তাদের অক্ষম করে দেওয়া হচ্ছে? নারীর যৌনানুভূতি থাকবে না এটা কেমন কথা।
নারী কি তবে জার্মানির সেক্স মেশিন হতে যাচ্ছে? আমার এক বান্ধবী তো পালিয়ে গেছে ভিয়েনায়। এ দেশ ছেড়ে হয়তো আমিও পালাব অচিরেই। ভাগ্যিস আমার জীবনে এমন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ঘটতে কতক্ষণ। আমার বয়ফ্রেন্ডকে বলেছি সে আমাকে সারাজীবন পাশে চাইলে আমাকে নিয়ে অন্য দেশে সেটেলড হতে।' ইউনিসেফের এক পরিসংখ্যানে নারীর যৌনাঙ্গচ্ছেদের ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে।
দেখা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ কোটি নারী তথাকথিত শাস্ত্রীয় রীতি পালনের নাম করে যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। এদের অর্ধেকই থাকেন বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশে। ৩০ টি দেশের ওপর গবেষণা শেষে নতুন এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
পি/ব
No comments:
Post a Comment