দেবশ্রী মজুমদারলঃ আবাসিক স্কুলে ছাত্রীদের রান্নার দায়িত্ব নিয়ে ধুন্দুমার বাঁধল বীরভূমের নলহাটিতে। রান্না করা খাবার ফেলে দিয়ে রান্নাশালে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভরত স্বনির্ভরগোষ্ঠীর মহিলাদের বিরুদ্ধে। তিনটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আন্দোলনে স্কুলের পঠন শিকেয় ওঠে। বিকেলের দিকে নলহাটি ১ নম্বর ব্লকের জয়েন্ট বিডিও সাতদিনের সময় নিলে রান্নাশালের তালা খুলে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে নলহাটি হাই মাদ্রাসায়। ওই মাদ্রাসায় ২০১৬ সালে সংখ্যালঘু ছাত্রীদের জন্য আবাসিক ছাত্রী নিবাস চালু করা হয়। ওই ছাত্রী নিবাসে ৫০ জন ছাত্রী থাকে। প্রথম দিন থেকে আবাসিক ছাত্রীদের জন্য রান্না করে আসছে রুচি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। শুক্রবার নলাটাশ্বরী, সোনালী এবং আরও একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা স্কুলের রান্নাশালে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।
অভিযোগ ছাত্রীদের জন রান্না করা খাবার তারা ফেলে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সে সময় স্কুলে যান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাজউদ্দীন। তিনি খবর দেন পুলিশে। নলহাটি থানা থেকে পুলিশ গিয়েও রান্নাশালের তালা খুলতে পারেনি। বিকেলের দিকে জয়েন্ট বিডিও গিয়ে সাতদিনের সময় নেওয়ায় তালা খুলে দেয়। বিডিও জগন্নাথ বাড়ুই বলেন, “আমরা সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসব। যারা রান্না করছে তাদের কোন বৈধতা না থাকলে আমরা জেলা শাসককে জানাব। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেই মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
হস্টেলের সুপার মেহেবুব আলি বলেন, “রুচি স্বনির্ভরগোষ্ঠী ভালোই রান্না করছিল। কিন্তু এদিন বিক্ষোভের জেরে ছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিকেল ৪ টের পর ফের রান্না করা হয়”। সোনালী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দলনেত্রী আয়েসা বিবি বলেন, “রুচি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কোন বৈধতা নেই। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে দীর্ঘদিন থেকে জানিয়ে আসছি। কিন্তু কেউ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তাই আমরা তালা ঝুলিয়েছিলাম। তবে খাবার ফেলে দিইনি”। স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সামিদা খাতুন, পলি খাতুনরা বলেন, “এদিন আতঙ্কে আমাদের পড়াশোনা হয়নি। সারাদিন ছিলাম অভুক্ত। কেউ কেউ ভয়ে বাড়ি পালিয়ে গিয়েছে”।
পি/ব
No comments:
Post a Comment