নিজস্ব প্রতিনিধিঃ লবন এমন একটি রান্নার উপাদান, কম হলেও চলে না। আবার বেশি হলে মুখে তোলা যায় না। যদিও কম হলে চলে, কিন্তু বেশি হলে মুখে তোলা যায় না। এমন হয়ে থাকে রান্না করতে গিয়ে তরকারিতে হঠাৎ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ পড়ে গেছে ! চিন্তার কোন কারণ নেই। কারণ কিছু মজার এবং সহজ পদ্ধতি আছে লবণ কমাবার। এই ব্যাপারে কিছু টিপস দেখে নিই। একজন পাকা রাঁধুনির এই টিপস গুলো জানা দরকার।
আটা/ময়দা:
আটা অথবা ময়দাতে কিছু পরিমাণ জল মিশিয়ে গোল গোল বল তৈরি করে অতিরিক্ত লবণ দেওয়া তরকারির মাঝে মাঝে এই গুলো দিয়ে দিন। এই গুলো নরম হলে সমস্যা নেই কারণ এগুলো তরকারিতে দিলে শক্ত হয়ে যাবে এবং অতিরিক্ত লবণ ধীরে ধীরে শুষে নিবে। রান্না শেষে এই বলগুলো ফেলে দিন। খাওয়ার সময় দেখবেন লবণ ঠিকই আছে।
আলু:
আলু ছোট ছোট টুকরা করে দিয়ে দিন তরকারিতে। আলু সেদ্ধ হতে হতে টেনে নেবে লবণ। রান্না শেষে আলু উঠিয়ে ফেলতে পারেন।
লেবুর রস:
অতিরিক্ত লবণ কমাতে ১ চা চামচ লেবুর রস দিয়ে দিতে পারেন তরকারিতে।
পেঁয়াজ:
মোটা মোটা করে পেঁয়াজ কেটে তরকারিতে দিয়ে দিতে পারেন, তরকারির অতিরিক্ত লবণ কমে যাবে। তাছাড়া ভাজি জাতীয় রান্নায় ছোট ছোট কুচি করে পেঁয়াজ কেটে মিশিয়ে দিতে পারেন, লবণ কমে যাবে।
টকদই:
টকদইও পারে তরকারির অতিরিক্ত লবণ কমাতে, তবে তরকারির পরিমাণ বুঝে টকদই ব্যবহার করতে হবে।
সবজি: সবজির তরকারি হলে আরও কিছু সবজি মিশিয়ে নিন। তরকারির বাড়তি লবণ কমে যাবে।
টমেটো:
ঝোলের তরকারি হলে কয়েকটি টমেটো চার টুকরা করে কেটে তরকারিতে দিয়ে দিন, অতিরিক্ত লবণ কমে যাবে। স্যুপ অথবা লিকুইড খাবার হলে পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। লবণের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
পেঁয়াজ বেরেস্তা:
কোন তরকারিতে লবণ বেশি হলে বেরেস্তা যোগ করুন। এতে ঝোল ঘন হবে এবং অতিরিক্ত লবণও কমে যাবে।
দুধ:
দুধও পারে তরকারির অতিরিক্ত লবণ কমাতে, তাই দুধও মেশাতে পারেন। মালাই: রোস্ট, রেজালা ইত্যাদি খাবারে লবণ বেশি হয়ে গেলে যোগ করা যায় মালাই, এতে লবণের পরিমাণ ঠিক হয়ে যাবে।
ডালের বড়ি:
মাছের ঝোলে আমরা অনেকেই ডালের বড়ি দিয়ে খেতে পছন্দ করি, এই বোড়ি অতিরিক্ত লবণ কমাতে সহায়তা করে। অমলেট খাবেন, কিন্তু একটু বেশি লবণ দিয়ে ফেলেছেন। তাই অমলেট বানানোর সময় এর সাথে কিছুটা দুধ মেশান, দেখবেন অমলেটটি অনেক নরম হয়েছে এবং নুন ঠিক হয়েছে।
ভিনিগার ও চিনি:
তরকারিতে স্বাদ ঠিক রাখতে এক টেবিল চামচ ভিনিগার ও এক টেবিল চামচ চিনি যোগ করতে পারেন। টক ভিনিগার ও মিষ্টি চিনি তরকারিতে যোগ করার ফলে স্বাদে ভারসাম্য আসবে।
ক্রিম:
ক্রিম দুধ থেকে তৈরি হয়। ক্রিম ব্যবহার করেও তরকারির অতিরিক্ত নুন কমানো যায়। এই পদ্ধতিগুলোর যে কোন একটি অবলম্বন করে তরকারির অতিরিক্ত নুন কমানো যাবে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment