দেবশ্রী মজুমদার:
শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে—
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে ?
গঙ্গারামকে পাত্র পেলে?
জানতে চাও সে কেমন ছেলে ?
মন্দ নয়, সে পাত্র ভালো—
রঙ যদিও বেজায় কালো;
তার উপরে মুখের গঠন
অনেকটা ঠিক প্যাঁচার মতন।
সুকুমার রায়ের সৎপাত্র এই গঙ্গা রাম নয়! এই গঙ্গা রামের বাড়ি পোস্তাও নয়! বাড়ি ছত্রিশ গড়ের বাওয়া মোহাত্রা গ্রাম। গঙ্গা রাম আসলে এক কুমিরের নাম। মুখের গড়ন যাই হোক। গঙ্গা রাম "মানুষ" খুব ভালো! গ্রামের লোকজন তাই বলে!
গ্রামেরই একটি পুকুরে বাস করত গঙ্গারাম৷ প্রায় ১৩০ বছর বয়স তাঁর৷ বয়সের ভারে জবুথবু হয়ে গিয়েছিল গঙ্গা রাম৷ গত ৮ জানুয়ারি বার্ধক্য জনিত কারণে মৃত্যু হয় তাঁর। স্বজনহারানোর মতোই দুঃখে ভেঙে পড়েছিলেন গ্রামবাসীরা৷ বনদপ্তরের কর্মীরা গঙ্গারামের দেহ উদ্ধার করতে আসেন৷ কিন্তু কুমিরকে ছাড়তে চাননি তাঁরা৷ অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া শেষ করে গ্রামেই রাখতে চেয়েছিলেন তাঁরা৷ গ্রামবাসীর চোখের জলে ভালবাসার কাছে হার মেনে নেন বনকর্মীরা৷ তাই তো এলাকারই পুকুরের পাশে গঙ্গা রামকে সমাধিস্থ করা হয়৷ আর সেই জায়গাতেই তৈরি হয় পুজোর বেদী তার নামে-- ‘গঙ্গারাম মগরমাছ কা মন্দির’ ।
গঙ্গারামকে ‘ভালো' বলেই মানতেন স্থানীয় মানুষ জন৷ তাঁরা ভাবেন, গঙ্গারাম জীবিত অবস্থায় যেমন গ্রামের ভালো চেয়েছে। তেমনি মৃত্যুর পরও কোন ক্ষতি সে হতে দেবে না৷ তাই গঙ্গারামের নামে মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত নেন গ্রামবাসীরা৷ তাঁদের সিদ্ধান্ত ওই মন্দিরে থাকবে দেবী নর্মদার মূর্তিও। উদ্বোধনের দিন চাঁদা তুলে ভুঁড়ি ভোজনের আয়োজন হয়। পাত পেড়ে সবাই খান।
ইংরেজ কবি মিল্টনের নায়ক শ্যামসনের মতো গ্রাম পাহাড়ায় রইল গঙ্গা রাম!!
পি/ব
No comments:
Post a Comment