দেবশ্রী মজুমদার: ১৯৮৩ সাল! কতটুকুই বা মহিম তখন! কপিল দেবের ১৭৫ রান। সেদিন বীরভূমের সদাইপুর থানার গুনসিমা গ্রাম মেতে উঠেছিল আনন্দে! এই লেখাটি যাঁর প্রসঙ্গে, তাঁর নাম মহিম সেখ। মহিম ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করে। প্রথমে বাবার হাতে তৈরি ব্যাট এবং টেনিস বল দিয়ে পাড়ার সমবয়সী এবং দাদাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার শুরু। সেই খেলার নেশা থেকেই, নিজেই বানিয়ে ফেলেছেন একটা আস্ত স্টেডিয়াম। খেলার মাঠের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট কোচিং একাডেমিও খুলেছেন তিনি। অখ্যাত এক গ্রামে স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো দেখে সিএবি পর্যন্ত তাজ্জব বনে গিয়েছে এবং তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভবিষ্যতে সিএবি প্রতিযোগিতার ম্যাচ ওই স্টেডিয়ামের জন্য ভাবা হবে। কিন্তু কি করে এটা সম্ভব হল?
সম্ভ্রান্ত চাষির পরিবারের ছেলে মহিম। পৈত্রিক জমি দিয়ে বানিয়েছেন একটি স্টেডিয়াম। প্রায় ৩২ বিঘের বেশি জমি দিয়ে সেই কাজ করেছেন। ইতিমধ্যেই দুটি গ্যালারি তৈরি হয়ে গেছে এবং তৃতীয় গ্যালারির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। রাতের খেলার জন্য ছটি ফ্লাডলাইট লাগানো হয়েছে। অত্যাধুনিক জিমও করেছেন। তাছাড়া সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল মহিম বাবু ওই স্টেডিয়ামে ক্রিকেট কোচিং একাডেমি খুলেছেন। নাম এম জি আর ক্রিকেট কোচিং একাডেমি।
বাংলার প্রাক্তন রঞ্জি ক্রিকেটার তথা বীরভূমের ভূমিপুত্র প্রবাল ঘোষ সেখানে কোচ হিসেবে নিযুক্ত। প্রাক্তন ক্রিকেটার সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় ওই স্টেডিয়াম ঘুরে দেখে গিয়েছেন। পাশাপাশি বিসিসিআইয়ের অন্যতম পিচ কিউরেটর আশীষ ভৌমিক ওই স্টেডিয়ামের ক্রিকেটের পিচ দেখে প্রশংসা করেছেন। মহিম বাবুর বয়স চল্লিশ পার হয়ে গেলেও এখনও নিয়মিত ক্রিকেট খেলেন।
তার ছেলে, ভাইপো এবং ভাগ্নে জেলাতে সুনামের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেন। ওই একাডেমীর ক্রিকেটাররা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নয়, প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের ক্রিকেট কোচিং একাডেমির বিভিন্ন দলের সঙ্গে মৈত্রী কাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। কোচিং একাডেমির পাশাপাশি সেখানে একটি ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল আছে। একটু বড় হলেই একাডেমিতে ক্রিকেটের তালিম নেয় তারা।
ক্রিকেট ছাড়াও প্রতি বছর নিয়ম করে ফুটবল প্রতিযোগিতা হয় সেখানে। সৈয়দ নইমউদ্দীন, সুব্রত ভট্টাচার্য, শিশির ঘোষ, সংগ্রাম মুখার্জি সহ প্রচুর প্রাক্তন ভারত বিখ্যাত ফুটবলার তার স্টেডিয়াম ঘুরে দেখে গিয়েছেন। অখ্যাত গ্রামে স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো দেখে সকলেই প্রশংসা করেছেন।
২০১০ সাল থেকে স্টেডিয়াম তৈরীর কাজ শুরু হয়। বীরভূম জেলা পরিষদ ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে স্টেডিয়াম এর পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করেছে। যদিও বাকি খরচ মহিম শেখ নিজেই করেছেন। কৃষি কাজের এর পাশাপাশি তার ফ্লাইঅ্যাস ইটের কারখানা, জামা কাপড়ের ব্যবসা আছে। এর সঙ্গে তিনি দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ।
মহিম শেখ বলেন, "ছোট বয়সেই ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম। পৈতৃক জমি দিয়ে একটু একটু করে বানিয়ে ফেললাম এক স্টেডিয়াম। যেখানে ক্রিকেট কোচিং একাডেমি আছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত প্রচুর প্রতিশ্রুতি মান ছেলেরা এখান থেকে ক্রিকেটের তালিম নেন। অনেকেই বিভিন্ন স্তরে খেলছেন। এই স্টেডিয়াম দেশের কাজে লাগলে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করবেন।"
No comments:
Post a Comment