দেবশ্রী মজুমদার: রাজনৈতিক পতাকা টাঙানোকে ঘিরে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষ। ঘটনার জেরে দুই বিজেপি কর্মী গুলি বিদ্ধ। বাবা ও ছেলে কে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে । রামকৃষ্ণপুরে রাতভর চলে ব্যাপক বোমাবাজি । ঘটনা স্থল থেকে পুলিস গিয়ে আহতদের গ্রাম থেকে উদ্ধার করে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি কারণে হাসপাতাল চিকিৎসকেরা মেডিক্যাল কলেজ রেফার করে দুই আহতকে। ঘটনাটি ঘটেছে নানুর থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামে। পুলিশী তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলে টহল পুলিশের।
এলাকাসূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত্রে ৯.৩০ নাগাদ ঘটনার সূত্রপাত। পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণপুর গ্রামে বিজেপি তৃণমূল বচসা হয়। অভিযোগ, বিজেপির পতাকা টাঙানোতে বাধা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। বচসা থেকে ভয়ঙ্কর চেহারা নেয় কিছুক্ষণের মধ্যে। দুই পক্ষ দেশি বোমা ও বন্দুক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই পক্ষ। আর এই সংঘর্ষের জেরে বিজেপি কর্মী স্বরূপ গড়াইয়ের বুকে গুলি লাগে। তাঁকে গুলি বিদ্ধ অবস্থায় বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যা ছায়া গড়াই জানান, গ্রামের দুর্গা তালা এলাকায়, রাত্রি সাড়ে নটা নাগাদ ব্যপক বোমাবাজি শুরু হয়। গ্রামে মহোৎসব চলছিল। দুষ্কৃতীরা সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। দুষ্কৃতীরা প্রথমে বিয়াল্লিশ বছর বয়স্ক ভুবনেশ্বর গড়াই ও ছেলে স্বরূপ গড়াই কে প্রথমে বাঁশ লাঠি মারধর করতে শুরু করে। প্রাণ ভয়ে তারা ছুটে পালাতে গেলে ভুবনেশ্বর গড়াইকে ডান পায়ে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। বাবাকে বাঁচাতে গেলে ছেলের বাঁদিকে বুকে নীচে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। জানা গেছে, শনিবার সকালে এলাকা পরিদর্শনে যান বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা। তিনি গ্রামে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের সাথে কথা বলেন। অনুপমবাবু বলেন, গ্রামে মহোৎসব চলছিল।
দুষ্কৃতীরা সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এরকম চলতে পারে না। এলাকায় বিজেপি ভালো কাজ করছে। সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে ভয় করছে না। তৃণমূল বুঝতে পেরেছে তাদের আর বেশি দেরী নেই তাই এলাকায় সন্ত্রাস করে এলাকা দখল রাখতে চাইছে। শনিবার ভোরের দিকে দুই গোষ্ঠীর মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক গোষ্ঠীর ৭ জন এবং অন্য গোষ্ঠীর ৮ জন কে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করছে পুলিশ।
পি/ব
No comments:
Post a Comment