সুদেষ্ণা গোস্বামী: যানজট পূর্ণ শহরে যারা থাকেন তারা চায় শান্ত নির্জন সবুজে ঘেরা একটা আস্তানা কিছুদিনের জন্য। তাদের জন্য মধুবনি হতে পারে ভবঘুরের আস্তানা। স্টেশন থেকে নেমে আটমাইল এর মাথায় গায়েরকাটা চা বাগান।রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে দেখতে পাবেন বেণী দুলিয়ে চা বাগানে খাটান দিতে যাচ্ছে সেখানকার মেয়েরা মুখে তাদের খিলখিল হাসি আপনার মন ভোলাবে। বিকেলের পরন্ত আলোয় চা বাগান হয়ে ওঠে আরও সুন্দরী। খুটিমারি বনফুুরে বেরিয়েছে গড়াই নদী।
নদীর বুকে মাছের আরত দেখতে পাবেন চারিদিকে মাছের মম করা গন্ধ ছড়িয়ে আছে। খুবই মিষ্টি সেই মাছ গুলি,বোরালি, কুসমা, ঝিলা কত ধরনের মাছ। নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পাবেন কচিকাচার দল নদীতে নেমেছে মাছ ধরতে।দেখে মনে হবে সেই রবীন্দ্রনাথের কবিতা আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে। সেখান থেকে কিছুদূর গেলে মঙ্গলের হাট ,দুরামারি এখানে একটি দর্শনীয় স্থান।
কিছুদূর গেলে রাঙা গ্রাম খুখলু্ ।সেখানে সুপুরি গাছের ছায়ায় কাঠের বাড়িতে আপনি চুমুক দিতেই পারেন ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ে। সামনে ঘন জঙ্গলআর কি চাই।গাইঘাটা বাজার আছে থেকে হয় বারোয়ারি দশভূজা। সেখান থেকে কিছুদূর গেলে নিরালা বাংলোয় হয় রিহিট বোনের গ্রীন ফেস্টিভাল। এরপর গাড়িতে চড়ে চলে যান চিতল ডেরা তে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার মন ছবেই।এখান থেকে ভুটান ৩০ কিলোমিটার মন চাইলে আপনি ভুটান ঘুরে আসতে পারেন।
এই সবকিছু নিয়েই মধুবনি অসাধারণ একটা জায়গা। সন্ধ্যে নেমে আসে কুয়াশায় মুখঢ়াকে মধুবনি নদী।মনে হবে যেন রাতের লজ্জা ঢাকতে সে মুখ ঢাকছে কুয়াশায়। কি যে অদ্ভুত অনুভূতি হবে আপনার তা বলে বোঝাতে পারব না। শিয়ালদা থেকে রাতের কাঞ্চনকন্যা পরদিন সকালে পৌঁছে দেবে দলগাঁও স্টেশনে সেখান থেকে মধুবনি ১৫ কিমি। সেখানে নদীর ধারে অল্প কয়েকটি ঘর আছে থাকার জন্য।
পি/ব
No comments:
Post a Comment