দেবশ্রী মজুমদার: সিবি আই প্রেম পত্র পাঠাচ্ছে লাভ লেটার টিএমসি নেতা মন্ত্রীদের, তাই বাঁচবার জন্য যোগাযোগ রাখছে আমার সাথে। তবে কোন চান্স নেই। যখন টাকা ঝেড়েছিলে, মনে ছিল না সিবি আই প্রেম পত্র পাঠাবে। লাভ লেটার। এখন দৌড়াদৌড়ি করছে। অনেকে আমার সাথে যোগাযোগ রাখছে। ভাবছে বিজেপিতে যোগ দিলে সিবি আই ডাকবে না। কোন চান্স নেই। সব নিজের টাকার ফেরত দিতে হবে। ডেকে ফেরত দিন। গঙ্গা স্নান করে আসেন। তার পর ঝাণ্ডা ধরিয়ে দেব।– এভাবেই ফের সিবি আই হানা যে আছে, লাভপুরের বাসস্ট্যাণ্ডের সভা থেকে ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিনের সভায় রাজ্য নেতৃত্বের সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা নেতৃত্বরাও।
এরপর তিনি বলেন, “আদিবাসীদের জায়গা দখল করে ফ্ল্যাট তৈরী করছে তৃণমূল নেতারা। সেটা বলার কেউ নেই। দরিদ্র মুসলিমদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে না। যতরকম লুঠ করা সম্ভব, লুঠ চলছে। এত দিন মুসলিমদের বোকা বানিয়েছেন। মাথায় হিজাব পড়ে নামায পড়তে যাচ্ছেন। এবার হিন্দুদের বকা বানাতে চাইছেন” এভাবেই বীরভূমের লাভপুর বাসস্ট্যাণ্ডে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ।
আমাদের একজন দিদি আছেন, মুসলিম মাফুজা খাতুন। দুবারের বিধায়ক ছিলেন। তিনি একটি কথা বলেন, আমি তো মুসলমানের মেয়ে , আমি হিজাদ পড়ি। দিঘায় গিয়ে তিনি বলেন, জগ্ননাথ মন্দির বানিয়ে দেব। হঠাৎ জগন্নাথ মন্দির কেন? বেশ তো রোজা চলছিল, ঈদ চলছিল। হিন্দুদের বোকা বানাতে হবে তাই। এবার দুর্গা পূজায়, আপনারা শুনেছেন, এক একটা পুজো কমিটিকে সরকার ২৫ হাজার টাকা অনুদান দিচ্ছে। গতবার ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল। ওরা দেখল ১০ হাজার টাকায় ভোট দেয় নি। তাই একটু বাড়িয়ে দিই। ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল, তবে দিদিমণির ছবি লাগাতে হয়েছিল দুর্গাপুজো কমিটিকে।
থানার বড় বাবু ফোন করে জানিয়েছিলেন, তোমাদের জন্য ১০ হাজার টাকা আছে নিয়ে যাও। পুজো প্যান্ডেলের সামনে চেক দিয়ে ছবি তুলেও রেখেছে। তবে যারা দিদির ছবি লাগায় নি , তাদের চেক ফেরত নিয়ে চলে গেছে। তাই এবার যারা ২৫ হাজার টাকা চেক নেবেন, তাদের বলি আগে জেনে নেবেন, কার কার ছবি লাগাতে হবে। পিসি, ভাইপো, মেয়র কার কার? না হলে চেক ফেরত নিয়ে নেবে। এই বোকা বানানোর রাজনীতি। হিন্দুকে বোকা বানানো, মুসলিমকে বোকা বানানো। দেখুন ইস্কুল আছে, মাস্টার নেই। হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই, কলেজ আছে প্রফেসর নেই। থানা আছে পুলিশ নাই। সিভিক পুলিশ থানা চালাচ্ছে।
কী করে সরকার চলবে? এইসব বিজেপি বলে দেবে। পাবলিক জেনে যাবে। তাই বিজেপিকে সভা করতে দেবে না। বন্ধুগণ বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমাদের অংশগ্রহণ করতে দেয় নি। মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। কোথাও মনোনয়ন জমা দিতে পেরেছে তো প্রচার করতে দেয় নি। প্রচার করতে দিয়েছে তো ভোট দিতে দেয় নি। ভোট দিতে দিয়েছে তো গুণতে দেয় নি। আমাদের জেতা সিট জোর করে কেড়ে নিয়েছে।
এখন কেন্দ্র থেকে যত টাকা আসছে লুট হচ্ছে। এখন তাদের চেহারা পাল্টেছে। যে আগে ফুটো ঘরে থাকতে হতো। এখন নীল সাদা ঘরে থাকছে। সব পঞ্চায়েতের টাকা। আগে সাইকেলে চড়তো। বেল বাজাতে হতো না। লোক এমনিতেই সরে যেতো। এখন মটোর বাইকে পিঁ পিঁ করে চলে যাচ্ছে। টাকা কোথা থেকে পেল? সব পঞ্চায়েত, সমিতি, জেলা পরিষদ থেকে একশো দিনের টাকা ঝেড়ে এসব করেছে। যার মটোর সাইকেল ছিল, দেখুন সে চার চাকা গাড়ি কিনেছে, এসি মেশিন লাগিয়েছে। কালো কাঁচ লাগিয়েছে। যাতে লোকে কাটমানির টাকা ফেরত না চায়। আগে একটা বিড়ি দুবার খেত। এখন দামি দামি সিগারেট খায়। আর গোল গোল ধোঁয়া ধোঁয়া ছাড়ে।
এই টাকা কোথা থেকে গরীব মানুষের উন্নয়নের টাকা মেরে। কিন্তু চিরদিন এমন চলবে না। যেমন সাইজের নেতা, তাকে তেমন জেলে পাঠাবো। যে জেলার নেতা, সে যাবে সিউড়ি জেলে, যে বিধায়ক, আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে। আর যে এমপি সে ভূবনেশ্বর কটকে যাবেন। এটা আপনারা জানেন। সিবি আইয়ের চিঠি আসছে। নেতাদের ব্লাড প্রেসার বেরে যাচ্ছে। শুকিয়ে যাচ্ছে শরীর। যখন টাকা ঝেড়েছিলে, মনে ছিল না সিবি আই প্রেম পত্র পাঠাবে। লাভ লেটার। এখন দৌড়াদৌড়ি করছে। অনেকে আমার সাথে যোগাযোগ রাখছে। ভাবছে বিজেপিতে যোগ দিলে সিবি আই ডাকবে না। কোন চান্স নেই। সব নিজের টাকার ফেরত দিতে হবে। ডেকে ফেরত দিন। গঙ্গা স্নান করে আসেন।
তার পর ঝাণ্ডা ধরিয়ে দেব। ৫০ হাজার কর্মীর উপর ২৮ হাজার কেস দেওয়া হয়েছে। এক বছরে ৬২ জন কর্মী খুন। আপনাদের এখানেও, পুলিশের অত্যাচারে মানুষ ঘর ছাড়া। কর্মী খুন করে গাছিয়ে টাঙিয়ে দিচ্ছে। এরা নৃসংস। আমরা বাংলা উড়িষ্যায় আমরা জিততে পারি নি। এবার এখানে পরিবর্তন হবে। পঞ্চায়েত থেকে পার্লামেন্টে জিততে হবে। আমাদের পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করতে দেওয়া হচ্ছে না। কয়লা, পাথর, বালি চুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্র সরকারকে বলে আমরা সব বন্ধ করাবো। যারা লুট করছে তাদের নির্বাচনে যোগ্য জবাব দিতে হবে। আজ তৃণমূলের পার্টি অফিস বোমাবারুদের কারখানা হয়েছে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment