দেবশ্রী মজুমদার: কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে গতবারের থেকে এবার মদ বিক্রি বাড়ল কয়েক লক্ষ টাকা। এবার বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে দু কোটিতে। তবে এবার বিয়ার ও দেশি মদ বেশি বিক্রি হয়েছে বলে আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
চলতি বছরের ২৯ ও ৩০ আগস্ট তারাপীঠে ছিল কৌশিকী অমাবস্যা। এই দু’দিনে তারাপীঠের ১৮ টি দোকান থেকে মদ বিক্রি হয়েছে ২ কোটি ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৪৮ টাকার। যা গত বারের তুলনায় ১৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৪৮ টাকা বেশি। আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার তারাপীঠে দুদিন ছিল অমাবস্যা। ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ অমাবস্যা শুরু হয়। শেষ হয় পরের দিন বিকেল ৪ টের পর। ফলে প্রথমদিন রাত্রি ২ টো পর্যন্ত দোকান খুলে রাখা হয়েছিল। পরের দিন রাত্রি সাড়ে ১১ টায় বন্ধ করা হয়েছিল সমস্ত দোকান।
এই দুদিনে বিলিতি মদ বিক্রি হয়েছে ২৩৬১৪.৩৮ লিটার। গত বছর বিক্রির পরিমান ছিল ২৫২৬৭ লিটার। অর্থাৎ বিলিতি মদ বিক্রি ১৬৫৩ লিটার কমেছে। সে দিক থেকে দেখলে বিয়ার বিক্রি বেড়েছে বেশ কিছুটা। এবার বিয়ার বিক্রি হয়েছে ১২২০৫.৩২ লিটার। গত এই পরিমান ছিল ৯৯০৫ লিটার। হিসাব অনুযায়ী ২৩০০ লিটার বেশি বিয়ার বিক্রি হয়েছে। এবার দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১৫৯২১ বোতল। গতবার যা ছিল ১৪২২৯ বোতল। অর্থাৎ ১৬৯২ বোতল দেশি মদ বিক্রি বেড়েছে।
আবগারি দফতরের রামপুরহাট মহকুমা ডেপুটি কালেক্টর সুহৃদ রায় জানান, এবছর বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৬ টাকা। বিয়ার বিক্রি হয়েছে ২৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৬৪ টাকা। দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১১ লক্ষ ৯৪ হাজার ১১৮ টাকার। সুহৃদবাবু বলেন, “বিয়ার ও দেশি মদের দাম তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় মানুষ সেদিকে বেশি ঝুঁকেছে”। সূত্রের খবর, এবার চার জোড়া ট্রেন বন্ধ থাকায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক কম হয়েছে। কারন পুণ্যার্থীরা বেশি আসেন রেলপথে।
এবার রেলপথে ১ লক্ষ ২৫ হাজার পুণ্যার্থী এসেছেন। বাকি এসেছেন সড়ক পথে। তারাপীঠে সাড়ে তিন লক্ষ পুণ্যার্থী এবার এসেছিলেন। তার মধ্যে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে বেশি পুন্যার্থী এসেছেন। মূলত ভিন রাজ্যের পুণ্যার্থীরাই বেশি মদ্যপান করেছেন। কারন বিহারে মদ পুরোপুরি বন্ধ। আর ঝাড়খণ্ডের মদের থেকে এরাজ্যের মদের গুনগত মান অনেক ভালো। ফলে অনেক পুণ্যার্থী এখান থেকে মদ কিনে নিয়ে যান বলে আবগারি দফতরের দাবি।
পি/ব
No comments:
Post a Comment