প্রেস কার্ড নিউজ ডেস্ক ; কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি ডি রাধাকৃষ্ণণের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে কোর্টের অনুমতি ছাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ করা যাবে না। আপাতত বন্ধ থাকবে সুড়ঙ্গ খোড়ার কাজ। মেট্রো নিয়ে আগেই মামলা দায়ের করেছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। গতকাল আইনজীবী ঋজু ঘোষাল হাইকোর্টে সেই মামলাটি উল্লেখ করে বলেন, বউবাজারে মেট্রো বিপর্যয়ের জেরে ৩২৩টি পরিবার বিপদে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মামলাটি যাতে দ্রুত শোনা হয় আর্জি জানান তিনি।
আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে আজকে শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি টি ডি রাধাকৃষ্ণণের ডিভিশন বেঞ্চ মেট্রোর কাছে বিপর্যয়ের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চায়। জবাবে কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে মেট্রোর এত কাজ হয়েছে। কিন্তু কখনও এধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এক্ষেত্রে বিপর্যয় ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি। ঘটনার ঘটার পর মুহূর্তেই ৩২৩টি পরিবারকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বউবাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সব বাড়ির মেরামতি ও পুননির্মাণের দায়িত্বে মেট্রো কর্তৃপক্ষ নেবে। যে সব বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে, সেগুলি সারানো হবে।আর যে বাড়িগুলি ধসে পড়েছে, সেগুলি পুননির্মাণ করা হবে।
পাশাপাশি, মেট্রো কর্তৃপক্ষ আরও জানায় যে, ইতিমধ্যেই সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষজ্ঞরা আসছেন। তাঁরা মাটি পরীক্ষা করে দেখবেন। কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল? কীভাবে এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা হবে? তার সবটা পরীক্ষা করে দেখবেন বিশেষজ্ঞরা। মেট্রোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে এরপরই একটি সামগ্রিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালত আরও জানিয়েছে, মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার জন্য ৩২৩টি পরিবারের একজন করে নিজেদের বাড়িতে ঢুকতে পারবেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির কাছে মেট্রোকে ওই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবে আদালত। তারপরই কাজ শুরু করা যাবে কিনা, বা কবে কাজ শুরু করা যাবে, তা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment