প্রেস কার্ড নিউজ ডেস্ক ; শুক্রবার রাধা অষ্টমীর দিন কোচবিহার দেবী বাড়ি মন্দিরে শক্তি দণ্ড স্থাপনের মধ্য এই পুজোর আরও একটি অধ্যায়ের সুচনা হয়। এই বিশেষ তিথিতেই মদনমোহন বাড়ি থেকে অমৃত বৃক্ষ ও হনুমান দণ্ড নিয়ে এসে আসা হয়। শ্রাবণের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে রাজকীয় নিয়মে যূপকাষ্ঠ পূজোর মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছিল বড়দেবীর আরধনার। ওইদিন কোচবিহার ডাঙ্গড়াই মন্দিরে ময়নাকাঠকে দেবীরূপে কল্পনা করে মাতৃ রূপ দেওয়া হয়। সেই উপলক্ষে ওইদিন ডাঙ্গড়াই মন্দিরে হয়েছিল বিশেষ পুজাপাঠ।
এরপর ওই ময়নাকাঠকে নিয়ে আসা হয়েছিল কোচবিহার মদন মোহন বাড়িতে। প্রায় ১ মাস সেখানে থাকার পর ময়না কাঠের ওই অমৃতবৃক্ষ নিয়ে আসা হয় দেবীবাড়ীতে। এদিন আবারও বিশেষ পুজো পাঠের মাধ্যমে এই শক্তি দণ্ড স্থাপন হয় দেবিবাড়ির মন্দিরে। কোচবিহার দেবত্র ট্রাষ্ট বোর্ড পরিচালিত এদিনের বিশেষ পুজোয় উপস্থিত ছিলেন কোচবিহারের জেলা শাসক কৌশিক সাহা, সদর মহকুমা শাসক সঞ্জয় পাল প্রমুখ।কথিত আছে, পঞ্চদশ শতকের শেষ ভাগে মহারাজা বিশ্বসিংহ ময়না কাঠের ডালকে শক্তিগজ হিসাবে কল্পনা করে প্রথম বড় দেবীর আরধনা শুরু করেন।
পরবর্তীতে ষোড়শ শতকের মধ্য ভাগে আনুমানিক ১৫৬২ খ্রীষ্টাব্দে মূর্তি গড়ে এই পুজোর সূচনা করেন মহারাজা নরনারায়ণ। বাংলার প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে কোচবিহার মহারাজাদের দেবী পুজো অন্যতম। প্রায় ৫ শতক পুরনো কোচবিহারের বড় দেবীর এই পুজো। প্রাচীন এই পুজো নিয়ে আজও কৌতূহলী সাধারন মানুষ।রাজা না থাকলেও রাজ নিয়মেই পুজিত হচ্ছেন কোচবিহারের বড়দেবী। মূর্তি গড়া থেকে পুজোবিধি সবেতেই রয়েছে এর স্বতন্ত্রতা। রাধা অষ্টমীর পুণ্য তিথিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের পুজো পাঠ শুরু হল, সেখানে ৩ দিন হাওয়া খাবেন দেবী।
এরপরই এই ময়নাকাঠকে ভিত্তি করে তৈরি হবে মূর্তি গড়ার কাজ। এই মূর্তি গড়ার ক্ষেত্রে রয়েছে দেবীর ভিন্ন রূপ। তুফানগঞ্জের চমটা এলাকার বিশেষ মাটি দিয়ে তৈরি হবে এই মাতৃরূপ। এখানে দেবীর সাথে নেই লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্ত্তিক, গণেশ তাদের বদলে রয়েছে জয়া/ বিজয়া। এখানে দেবীর রূপ ভিন্নরূপ। শরৎকালীন সময়ে এর মূল পুজো হলেও বড় দেবী নামে এই দেবী পরিচিত।
এইদিন মহা স্নানের মধ্য দিয়ে অমৃত বৃক্ষকে স্থাপন করা হয় দেবী বাড়ি মন্দিরে।রাজ পুরোহিত হীরেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এদিন ভোর রাতে অমৃত বৃক্ষকে নিয়ে আসা হয়। এরপর সকালে বিশেষ স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পুজো পাঠ। এখানে এই কাষ্ঠ ৩ দিন হাওয়া খাওয়ার পর এই ময়না কাঠকে ভিত্তি করেই তৈরি করেই গড়ে উঠবে মূর্তির কাঠামো। যার উপর পড়বে মাটির প্রলেপ।এই পুজো প্রসঙ্গে জেলা শাসক কৌশিক সাহা জানান, ঐতিহ্য পরম্পরা মেনেই এই পুজোর কাজ শুরু হয়েছে, আমরা আশা রাখছি প্রথা মেনে নিষ্ঠার সাথে এই গোটা প্রক্রিয়াটি শেষ হবে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment