নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রথমেই বলি, বেলতলায় যখন একবার এসেছেন, মাথাটা বাঁচিয়ে চলবেন। বিয়ের প্রথম দিকে সব দেবা দেবী উত্তম - সুচিত্রা সেন জুটি-- আহ্ এই পথ যদি শেষ না হতো, তবে কেমন হতো... বিয়ের বছর খানেক বাদে প্রশ্ন করলে -- তুমি বলো না! প্রশ্ন উত্তর সব এক সাথে গিন্নি দিয়ে দেবেন! এই প্রথা আগেও ছিল, এখনও আছে। আগে ছিল, বুড়ো মিনসে... এখন -- জাস্ট অসহ্য... এখন সমাধান কি? বিয়ে মানেই তো ভাইভা ভোসি। আপনার ব্যক্তিত্বের পরীক্ষা।
১) আপনাকে ভালো শ্রোতা হতে হবে। শুনতে হবে। আপনি উদাসীন হয়ে সক্রেটিস বনে গেলেন তা হবে না। এখন আপনার মাথায় জল ঢালবে না স্ত্রী। ধুতি পড়লে বোলতাম কাছা খুলে দেবে।
২) যখন স্ত্রী উত্তর চাইবেন, উত্তরটা তখনই দিন। সেটা অবশ্য বল দেখে ব্যাটিং। গুগলি দেখলে, উইকেট বাঁচান। একটু ডিফেন্সিভ! ধরুন গিন্নিকে মিথ্যা বলেছেন। নিশ্চিত থাকুন, সন্দেহ যখন করেছে, আপনি ধরা পড়ে গেছেন। ওদের রার্ডার খুব শক্তিশালী। ওখানে চালিয়ে ব্যাট খেলবেন না। গোটা দিন খুট খুট করে খেলে রান না বাড়লে, রান আউট হয়ে যান। দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলুন। দেখ, আমি স্বীকার করছি ভুল হয়ে গেছে।
আর হবে না, আমি কান ধরছি। লজ্জা পাবেন না। ঘরের মধ্যে তো! ওখানে আপনার পৌরুষত্বের অপমানের কেউ সাক্ষী নেই। মনে নেই, স্কুলে কান ধরলে শিক্ষক হাত টেনে দেখতেন, শক্ত করে ধরা হয়েছে কি না? এখানে তার বালাই নেই। লজ্জা পাবেন না। আপনার পৌরুষ আপনার স্ত্রীর হাতে। স্বামীর কড়া ভাব ব্যাক্তিগত জীবনে পছন্দ না করলেও, বাইরে আপনার স্ত্রী বলবে, বাব্বা আমার উনি যা রাগী! কোন কিছু অপছন্দ হলে, বলবে, আপনার দাদা এসব পছন্দ করেন না। আগে, দাদাকে জিজ্ঞেস করি, তারপর জানাবো! এক কথায়, সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ!
৩) রাগারাগি না থামলে, একদিন উপবাস করুন। স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। তবে স্ত্রী খেয়েছে কিনা ছেলে মেয়ের কাছে খোঁজ নিন। মৌনব্রত নিন। দিন কয়েকের জন্য। খবরদার ঝগড়ার কথা পাঁচ কান করবেন না, বা বাইরে রাগ করে চট করে চলে যাবেন না। সন্ধের দিকে, স্ত্রী যে খাবার পছন্দ করে সেটা নিয়ে আসুন। ছেলে বা মেয়ের হাত দিয়ে স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিন। পৃথিবীর সমস্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা খাবার টেবিলেই হয়। একটু ঘুরিয়ে বলা আমি তোমারই আছি। ঝগড়ার মূল কারণ তো একটাই অভিযোগ, তুমি আর আগের মতো নও!
৪) নারী জাতি জেদ দেখায়। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে চাই। আগে ও বলুক। ঝগড়া হলেই বিছানা সাধারণত আলাদা হয়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতি অনুযায়ী ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে কোন অসুবিধা নেই। মাথার বালিশ নিয়ে এক জায়গায় হোন। নিয়ম মেনেই বৌয়ের হাত ধরুন। দেখবেন, গিন্নি বলবে, থাকতে পারে না, আবার রাগ দেখায়! মেয়েদের জিতিয়ে দিন। আপনি জিতে যাবেন। লজ্জা পাবেন না। কবি জয়দেব গীতগোবিন্দের এক জায়গায় থেমে গেছিলেন। ওই লজ্জায়! শ্রী কৃষ্ণ বলেছিলেন, এ কি রে! গোটা জগৎ চলছে ওদের জন্য! জয়দেবের রূপে এসে পদ্মাবতীর কাছে খাতা চেয়ে নিয়ে, নিজেই লিখে দিলেন-- 'দেহি তব পল্লব মুদারম'। সোজা কথায় গিন্নির পায়ে ধরা!
৫) কোন আকাট বলে, স্ত্রী বুদ্ধি প্রলয়ঙ্করী! মেয়েরা আপাত রোমান্টিক হলেও, ওরাই সংসার ধর্মে অত্যন্ত বাস্তব বাদী! তবে কুবুদ্ধি যে দেয় না, তা নয়। কেউ কেউ দেয়। সেক্ষেত্রে, তার কথা না শুনলে আপনার কি কি ক্ষতি হবে বলুন। তার পর বলুন, ঠিক আছে, তুমি যা বলছো, তাই করবো, তবে আমার কি কি ক্ষতি হতে পারে, আমি তোমাকে জানিয়ে রাখলাম। দেখবেন, আপনার পরামর্শ চাইবে। এই কথা হয়তো অনেক বীরপুঙ্গবদের গায়ে লাগবে।
তাদের জন্য একটি গল্প বলি::: কোন এক দেশের রাজা একবার তার উজীরের সাথে বাজি ধরলো। বিষয় এই যে, রাজা বলেছে তার রাজ্যে কেউ না কেউ সাহসী পুরুষ আছে যে বউয়ের কথা শোনে না। উজীর বললো, "সে হয় না সবাই বউয়ের কথা উঠবোস করে। " রাজা বললো, তার দেশ কাপুরুষে ভরা নয়। সাহসী পুরুষ নিশ্চয় আছে। অতএব, বাজি।
নির্দিষ্ঠ দিনে ঘোষণা দেওয়া হলো। রাজ্যের সব পুরুষকে রাজবাড়ীর মাঠে যেতে হবে। রাজ হুকুম, অতএব সবাই হাজির হলো। রাজা বললেন যারা বউয়ের কথায় উঠবোস করো তারা পাহাড়ের নিচে চলে যাও। মূহুর্তে হুরমুর করে সবাই পাহাড়ের দিকে সরে গেলো। মাঠ ফাঁকা। রাজা কষ্ট পেলেন। তবে কি তার রাজ্যে একজন পুরুষও নেই যে বউয়ের কথা শোনে না! নাহ, একজন আছে। রাজা লাফিয়ে উঠলেন। দৌড়ে গিয়ে ভদ্রলোককে জড়িয়ে ধরলেন। সে রাজার মান রেখেছে।
রাজা জানতে চাইলেন কেন সে পাহাড়ের দিকে যায়নি? তার সাহসের রহস্য কি? ভদ্রলোকটি বলল, "আজ্ঞে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বউ বললো রাজবাড়ীর মাঠে যাচ্ছো যাও কিন্তু ভীড় সেধিয়ো না। যে দিকে ভিড় থাকবে তার উল্টো দিকে দাড়াবে। "
দাদা, বাঁচার উপায় ঐ একটাই। বউ যা বলবে তাই শুনবেন। ওরা দশভূজা। ওদের হাতে অনেক অস্ত্র আছে। ক্রোধ, অশ্রু, আর ও কত কি! দয়া করে স্ত্রীর চেয়ে বেশী বুঝতে যাবেন না। বোঝা যে শুধু উচিৎ নয়, তাই নয়, গর্হিত কাজও বটে!!
পি/ব
No comments:
Post a Comment