দেবশ্রী মজুমদার: এক আবাসিক ছাত্রের আত্ম হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল মুরারইয়ের পাইকরে। মুরারই বিধানসভার পাইকর -১ ব্লকের কাশিমনগরের আল আজহার মিশন নামে একটি বেসরকারি মাদ্রাসা আবাসিকে পড়াশোনা করত ছাত্রটি। ছাত্রটির নাম সেখ আসলাম (১৫)। বাড়ি সিউড়ি থানার দমদমা গ্রামে।
ওই মাদ্রাসার আবাসনে ২২ জন ছাত্র থাকত। রবিবার ছুটি থাকায় শনিবার অধিকাংশ শিক্ষক বাড়ি চলে যেতেন। দু এক জন থেকেও যেতেন। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি সাবিরুল ইসলাম বলেন, “স্কুলে থাকা সিসিটিভি দেখে জানতে পারি শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো ভোর পাঁচটার সময় নামাজ পড়ে ক্লাস রুমের দিকে যায় ওই ছাত্র। কারন অনেক ছাত্র আবাসন ছেড়ে ক্লাস রুমে পড়াশোনা করে। তার কিছুক্ষণ পর অন্য একটি রুমে চলে যায়।
ঘণ্টাখানেক পর অন্য ছাত্ররা চিৎকার করে জানায় আসলাম ওরফে আলম মেঝেয় পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা ছুটে গিয়ে দেখি মেঝের মধ্যে পড়ে ছটফট করছে আলম। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ডেকে প্রথমে তাকে পাইকর ব্লক হসাপাতাল ও পড়ে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালে নিয়ে যায়। আজ সকালে সেখানেই মৃত্যু হয়”। একইভাবে, চেয়ারম্যান ফাকিউদ্দিন সেখ বলেন, ঘটনাটি দুঃখ জনক। তবে এই ঘটনার সাথে র্যাগিংয়ের কোন সংযোগ নেই।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, এই মৃত্যু নিয়ে একটা ভুল খবর রটেছে। ছাত্রটি নবম শ্রেণীতে পড়ত। আগেও দুবার একইভাবে ডিটারজেন্ট খাওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে সুইসাইডের চেষ্টা সে চালিয়েছিল। কিন্তু স্কুলের সহপাঠীরা দেখে ফেলায় বেঁচে যায়। স্কুল প্রতিপক্ষর তরফে ছাত্রর বাবাকে বলা হয়, ছেলেকে নিয়ে যান। কারন ছাত্রটি বাড়ি ছেড়ে থাকতে ইচ্ছুক নয়। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেন নি। ছাত্রের মামাই একমাত্র স্কুলে ছাত্রটির সাথে দেখা করতে আসত। ছেলেটি ধর্মাচরণ করতো নিয়ম মেনেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। আযানও দিত। এজন্য স্কুল কর্তৃ পক্ষ একবার তাকে পুরস্কৃত করে। তবে তার দেহে বিভিন্ন দাগ দেখা গিয়েছে।
এব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য না পাওয়া গেলেও, হান্নান সাহেব জানান, সিলিং ফ্যানে ঝোলার ফলে দেহের বিভিন্ন অংশে আঁচড়ের দাগ দেখা যায়। সহপাঠীরা বাঁচাবার জন্য চেষ্টাও করে। মৃত ছাত্রের বাবা শেখ ইলিয়াস বলেন, “ছেলেকে অত্যাচার করে মারা হয়েছে। শরীরে আঘাত ও ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। যা দেখে মনে হচ্ছে ব্লেড দিয়ে শরীরে কাটা হয়েছে। ছেলে বাঁচার চেষ্টা করেছে। তার প্রমাণ হাঁটুর মধ্যে কোন চামড়া ছিল না। শেষে গলায় দড়ি দিয়ে তাকে আত্মহত্যা প্রমানের চেষ্টা করা হয়েছে”। ঘটনাস্থলে মৃত্যুর তদন্তে পাইকর থানার পুলিশ।
পি/ব
No comments:
Post a Comment