দেবশ্রী মজুমদার: সম্প্রতি পৌষমেলা ঘিরে বিশ্বভারতীর তরফে পৌষ মেলা সংক্রান্ত এক বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীসভার সভাপতি গগন সরকার উপাচার্যের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। বৃহস্পতিবার রীতিমত সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, একশোটি স্টল নিয়ে পৌষ মেলা হবে পরিবেশ আদালতের নির্দেশে।
আদতেই পরিবেশ আদালতের কোন নির্দেশ নামা প্রকাশিত হয় নি। কারণ এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আদালতের কোন রায় দান হয় নি। বিশ্বভারতী, পৌরসভা, এস এস ডি এ সর্বোপরি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ডিড অনুযায়ী মেলা চালানোর জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্রাস্টি এব্যাপারে কোন বৈঠক করে নি। তাহলে বিশ্বভারতীর উপাচার্য কিভাবে কারো সাথে আলোচনা ছাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নিলেন?
সর্বোপরি পরিবেশ আদালতকে মান্যতা না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবেশ আদালতের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে একশোটি স্টলের কথা বলছেন। এই মেলা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারত বর্ষের ঐতিহ্যবাহী মেলা। সেটা বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। কখনও পরিবেশ আদালতের কথা বলছেন। গণতন্ত্রে সবাইকে নিয়ে চলার কথা। সবার মতামত নিয়ে চলা উচিৎ। কেউ আদালতে কোন বক্তব্য পেশ করলো না।
তার আগেই পরবেশের আদালতের সিদ্ধান্ত উনি নিজেই জানিয়ে দিলেন। এছাড়াও ১৯ মে আরও কিছু বিষয়ে উনি উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। এব্যাপারে বিশ্বভারতীর জন সংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার বলেন, একটা অচলা অবস্থা চলছে বিশ্বভারতীতে। সেই অচলাবস্থা দূর করার জন্য আমরা কর্মী বন্ধুদের অনুরোধ করছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা এই অবস্থান থেকে ফিরে আসুন এবং কাজে যোগদান করুন।
ইতিমধ্যে সবার সাথে আমাদের একটা আলোচনা হয়েছে। যেহেতু আমরা বকেয়া দিতে পারি নি। গোটা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ টেলিফোনে উপাচার্য জানিয়েছেন। উনি উপাচার্যকে জানিয়েছেন, সমস্ত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আর্থিক সংকট চলছে।এই বিষয়টি খুব দূরত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তরে জানানো হয়েছে। তারা এই অবস্থা অতিক্রম করে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের মাধ্যমে সমস্ত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন।
সেই অর্থ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত কর্মী ও পেনশন ভোগীদের বকেয়া অর্থ দিয়ে দেওয়া হবে। ১৯ শে মার্চ আমাদের কতগুলো দাবি বিশ্বভারতীকে কর্মীসভা দিয়েছেন। সেটা বিশ্বভারতী বিবেচনা করছে ও তা পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করবে।
জনসংযোগ আধিকারিক পৌষমেলা সংক্রান্ত ঘোষণাকে মিথ্যা ও ভুয়ো বলে দাবি জানাচ্ছে বিশ্বভারতী কর্মীসভার সভাপতি দেবব্রত সরকার এবং বিশ্বভারতী কর্মীসভা। এই নিয়ে এদিন তাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করেন এবং সিদ্ধান্ত হ নেন যে, আর্চায ও রাষ্ট্রপতি চিঠি লিখে তাঁরা সমস্ত ব্যাপারটি জানাবেন।
পি/ব
No comments:
Post a Comment