দেবশ্রী মজুমদারঃ শিবপুর মৌজায় আইটি পার্কের কাছে বিশ্ব বাংলা বিশ্ব বিদ্যালয়, গীতবিতান টাউন শিপ এবং তার উল্টোদিকে ক্ষুদ্র শিল্প মেলা বসবে। গোটা ব্যাপারে কাজের অগ্রগতি দেখে গেলেন হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশীষ সেন। কাজ দেখে তার ছবি তোলেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, গীত বিতানে কেউ নির্ণীয়মান বাড়ি দেখতে পারেন।বা প্লট কিনে বাড়ি বানাতে পারেন, তবে ফ্ল্যাটের মডেল এক রাখতে হবে।
এটাই এই টাউনশিপের বিশেষত্ব। এখানে চাষিদের ভবিষ্যত কি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে, দেবাশীষ বাবু বলেন, গীতবিতানের উলটো দিকে ক্ষুদ্র শিল্প মেলা হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। যেটা আইটি পার্কের কাছে। এটাই শান্তিনিকেতনের ভবিষ্যৎ। তাই এখানে এই কথাটা ঠিক নয়। পাশাপাশি, এদিন তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে শান্তিনিকেতনের বর্ধিত পৌষ মেলা এই ক্ষুদ্র শিল্পমেলার জায়গায় হবে।
মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, সমস্ত কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গীতবিতান ও ক্ষুদ্রশিল্প মেলা। এখানে হস্ত শিল্পের অগ্রগতির জন্য মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। যদিও আগে সেখ সানারুলের মত চাষিদের দাবি ছিল, শিল্প হলে জমি নেওয়া হোক। আবাসনের জন্য জমি দেব না। তবে আজ শিবপুর চাষি সেখ সানারুল বলেন, এলাকার কতগুলো যুবক পরিদর্শনের জায়গা যায়। তারা জানায়, চাষিরা কি করছে, তারা ওসব নিয়ে ভাবতে চায় না। তাদের কাজ দরকার। সেব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে শুনেছি।
উল্লেখ্য,২০০১ সালে গঠিত পশ্চিম বঙ্গ উন্নয়ন তথ্য প্রযুক্তি নিগম (ডব্লিউ বি আই টি সি) বোলপুর থেকে তিন কিমি দূরে শিবপুর মৌজায় সুপুর-রাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রায় ২১১ জন চাষীর কাছ থেকে। সেই সময় চাষিদের পাশে ছিলেন বর্তমান সরকার। সিংহভাগ জমিদাতা ছিলেন এলাকার সংখ্যালঘু মানুষ। ২০০১ সালে তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ৯ডি পেমেন্ট নোটিশ পান চাষীরা। সেই নোটিশে বলা হয়, ভূমি রাজস্ব দপ্তরে ৬৭হাজার ৯৯১ টাকা বিঘা প্রতি দাম পাবেন চাষীরা।
এরপর ২০০২ সালে ৩০ অক্টোবর ফের নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, চাষীরা ওই টাকার পরিবর্তে বিঘা প্রতি ৪৭ হাজার ৪১৭ টাকা পাবেন। মোট ১২৬২ এাওয়ার্ড ভূক্ত চাষীদের এই নোটিশ দেওয়া হয়। ওই দিন অনেকেই ওই টাকা নিতে যান নি। যদিও চাপের রাজনীতিতে বার বার হার হয়েছে চাষিদের।
পরে রাইপুর-সুপুর পঞ্চায়েত অফিস থেকে বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয় মোট ১১০ জন চাষীর হাতে। যদিও, কৃষক আন্দোলন একবারের জন্য থামেনি। কোলকাতা উচ্চ আদালতে জমিহারা কৃষকদের অধিকার নিয়ে একটি মামলা চলছে। বামফ্রন্টকে এই আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের পাশে থাকতে দেখা গেছে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment