দেবশ্রী মজুমদারঃ নানুর সংঘর্ষ ঘটনায় রবিবার সন্ধ্যায় স্বরূপ গড়াই মারা যান। এই ঘটনার জেরে রবিবার আলো চৌধুরী ও তুফান দাস নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুই জনকে সোমবার বোলপুর আদালতে তোলা হবে। অভিযুক্ত দুই জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৪/২৭/৫০৬/৩৪ আর / ডব্লিউ ৩/৪ ই এস এবং ২৫/২৭ অস্ত্র আইনে মামলার পাশাপাশি ৩০২ ধারায় মামলা যুক্ত করা হয়।
কোলকাতা পার্ক সার্কাস হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ সোমবার গ্রামে পৌঁছাবে। সেই পরিস্থিতিতে গ্রামে যাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে, সেই জন্য এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে নানুর থানা ও সিউড়ি এস পি অফিসের অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। জেলা বিজেপি নেতা বিশ্ব প্রিয় রায় চৌধুরী বলেন, এই ভাবে বিজেপি কর্মীদের খুন করে দিদি যদি মনে করেন পার পেয়ে যাবেন, তা পাবেন না। জনরোষ যখন হবে, তখন গুণে শেষ করতে পারবেন না দিদি।
সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই খুনের ঘটনার পেছনে আছেন কেরিম খান। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে পুর্ত কর্মাধ্যক্ষ কেরিম খান বলেন, ঘটনার দিন আমি বারাসাত কোর্টে এক ব্যক্তির জামিনের জন্য উপস্থিত ছিলাম। পরের দিন সাড়ে আটটায় বাড়ি আসি। তৃণমূল খুনোখুনির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাছাড়া আমাদের ভালো সংগঠন আছে। আমরা মানুষ মারতে যাব কেন?
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে রাজনৈতিক পতাকা টাঙানোকে ঘিরে বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষ। ঘটনার জেরে দুই বিজেপি কর্মী গুলি বিদ্ধ। বাবা ও ছেলে কে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে । রামকৃষ্ণপুরে রাতভর চলে ব্যাপক বোমাবাজি । ঘটনা স্থল থেকে পুলিস গিয়ে আহতদের গ্রাম থেকে উদ্ধার করে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি কারণে হাসপাতাল চিকিৎসকেরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ রেফার করে দুই আহতকে।
ঘটনাটি ঘটেছে নানুর থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামে। ওই দিন গ্রামের দুর্গা তালা এলাকায়, রাত্রি সাড়ে নটা নাগাদ ব্যপক বোমাবাজি শুরু হয়। গ্রামে তখন মহোৎসব চলছিল। দুষ্কৃতীরা সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে দেয়। দুষ্কৃতীরা প্রথমে বিয়াল্লিশ বছর বয়স্ক ভুবনেশ্বর গড়াই ও ছেলে স্বরূপ গড়াই কে প্রথমে বাঁশ লাঠি মারধর করতে শুরু করে। প্রাণ ভয়ে তারা ছুটে পালাতে গেলে ভুবনেশ্বর গড়াইকে ডান পায়ে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। বাবাকে বাঁচাতে গেলে ছেলের বাঁদিকে বুকে নীচে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। এদিন ধৃতদের পুলিশ ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চায়। বিচারক ৮ দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন।
পি/ব
No comments:
Post a Comment