নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ২০১৭ সালে একটি ভিডিও ফুটেজ পাল্টে দিল একটা মানুষের জীবন। আর সেই কাজে পাশে পেয়েছেন তাঁর স্ত্রীকে। ভিডিওটা কী ছিল?চিকিৎসকদের একটি ষাঁড়ের পেট থেকে অস্ত্রপচার করে প্লাস্টিক বের করার দৃশ্য। আর তাই দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। ভাবতে থাকেন কি করে বর্জ্য প্লাস্টিককে প্রক্রিয়াকরণ করে কি করে প্লাস্টিককে থামানো যায়। তাই প্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা শুরু করেন স্বামী স্ত্রী দুজনে।
দেশে পরিকাঠামোগত চাহিদা অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করেই বাড়ি বানানোর চিন্তা মথায় আসে প্রশান্ত–অরুণার। বর্জ্য প্লাস্টিকের প্রক্রিয়াকরণ করে তা দিয়ে আস্ত একটি বাড়ি তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় হায়দরাবাদের ঐ দম্পতি। যাদের নাম প্রশান্ত লিঙ্গম এবং অরুণা।
বাড়ির নকশা আঁকা, বাঁশ দিয়ে আসবাব তৈরিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি। প্রশান্ত জানান, তারপরই উপ্পলে সাত টন প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে ৮০০ বগ্রফুটের একটি বাড়ি তৈরি করে ফেলেন দুজনে। সারা শহরে এরকম পাঁচটি প্লাস্টিক বাড়ি তৈরি করে ফেলেছেন ওই দম্পতি। স্ট্রাকচারাল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসের সহ সভাপতি এস পি আঞ্চুরি বাড়িগুলির স্থাপত্য এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে প্রশান্তের আশ্বাস, প্লাস্টিকে তৈরি এই বাড়িগুলি ইট–পাথরে তৈরি বাড়ির মতোই মজবুত। জল, আগুন এবং তার নিরোধক। টিঁকে থাকে প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত। বর্তমান বাজারে সাধারণ একটি বাড়ি তৈরির নূন্যতম খচ ৪০ লক্ষ টাকা। সেখানে প্লাস্টিকে তৈরির বাড়িতে প্রতি বর্গফুটে খরচ হয় ৭০০ টাকা।
জানা গেছে, দুধের প্যাকেট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আসবাব, শৌচাগার, বেঞ্চ এবং বাসের যাত্রী প্রতীক্ষালয়ও। এর আগে প্লাস্টিক দিয়ে সিরসিলায় ৫৫টি এবং সিদ্দাপেটে ৪৫টি পরিবেশবান্ধব ছাউনি তৈরি করেছেন ফুটপাথে হকারদের জন্য। বেশ কিছু স্কুল তাঁদের প্লাস্টিক দিয়ে বেঞ্চ তৈরির বরাত দিয়েছে, বলে জানা গেছে। সেই প্লাস্টিক দিয়ে ফুটপাথের টাইলস্ তৈরি করেছেন প্রশান্ত–অরুণা।
পি/ব
No comments:
Post a Comment