দেবশ্রী মজুমদারঃ “ধান্যব্যবসায়ীদের কখনও ফড়ে বলা হয় নি। আপনাদের কাছে ধান বিক্রির মাঝে যে অর্থ আদায় করে তারাই ফড়ে। আপনার ধানের দাম কৃষকের কাছে পৌঁছালো না। ফড়ে ওর থেকে টাকা কেটে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিল। তবে পাশাপাশি, ধান্য ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সব ব্যবসায়ীদের পাশে রাজ্য সরকার আছে।
বুধবার তারাপীঠে বীরভূম জেলা ধান্য ব্যবসায়ী সমিতি পঞ্চম জেলা সম্মেলনে এভাবেই ধান্যব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলে মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, ধান্যব্যবসায়ীদের পাশে রাজ্য সরকার আছে। ফড়ে ব্যবস্থার বন্ধ করতে সরকারি দর অনুযায়ি ১৭৭০ টাকা ধার্য হয়। অন্য জায়গায় ১৭৫০ টাকা চাষিরা পাবে। সেটাও বলা হয় চাষিদের স্বার্থে। চাষিরা দাম পেলে চাষ হবে, আপনাদের ব্যবসা বাড়বে।
এদিন তিনি বলেন, যেদিন কৃষি মন্ত্রী হিসেবে আমাকে দায়িত্বভার দেওয়া হয়, সেদিন মুখ্যমন্ত্রী আমাকে বলেন, কত ফসল উৎপাদন হচ্ছে বা কত ক্ষেত্র বাড়ছে, তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চাষিদের কত আয় বাড়ছে। ২০১০ -১১ সালে কৃষকের বাৎসরিক আয় ছিল ৯১ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ সালে সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৩৯ হাজার। আজ সেই আয় বেড়েছে ২ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার বেশি।
অর্থাৎ কৃষকের আয় তিন গুণকে ছাড়িয়ে গেছে। আপনারা জানেন, পর পর পাঁচ বার পুরষ্কার পেয়েছি। এবারও ভারত সরকার আমাদের কৃষি কর্মণ পুরষ্কার পেয়েছি। সেচ ব্যবস্থায় আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। সেচ ব্যবস্থায় সংস্কার হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে ৫৭ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে রাজ্য সরকার বৈধরা ড্যাম থেকে যে ৬/৭টি ক্যানেল বেরিয়েছে। সেগুলো সংস্কারের কাজ নভেম্বরে শুরু হবে।
খরা কবলিত এলাকায় সেচ সংস্কার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ দপ্তর বিভাগকেও বলা হয়, বিল দিতে যারা পারে নি, তারা না পারলেও লাইন যেন কেটে না দেওয়া হয়। শস্য বিমার ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ রাজ্য ও ২০ শতাংশ দেয় কেন্দ্র সরকার দেয়। শুধু তাই নয় ১০০ শতাংশ শস্য বিমা দেওয়া হয়। ৪০ লক্ষ কৃষকদের আমরা ফসল ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। এমনকি কৃষি পরিবারের কেউ মারা গেলে আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা রাজ্য সরকার করেছে। ১২০০ আবেদন ট্রাক্টারের আবেদন পড়ে। আমি বলেছি, এগুলো চাষের জন্য ব্যবহার করুন। বালি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়।
পি/ব
No comments:
Post a Comment