২য় দফায় আস্থা ভোটে বনগাঁ পৌরসভা তৃণমূলের দখলে গেল । এদিন তৃণমূলের পক্ষের ১৪ জন কাউন্সিলর সেই ভোটাভুটিতে অংশ নিলেও বিজেপির ৭ কাউন্সিলর সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বদলে তারা এদিন ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে অনাস্থা ভোটের ব্যবস্থা করা হয়নি। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারক শেখর বি সরাফ এর এজলাসে আইনজীবী মারফত একটি পিটিশন জমা দেন বিজেপির কাউন্সিলররা।
বিজেপির দাবি, তারই প্রেক্ষিতে এদিন বিচারক আজ অনাস্থা ভোট পরিচালনার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেন । নতুন কোন নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি থাকবে , এই মর্মে আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী দেবযানী দাসগুপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসকের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি মেইল করেন।
যদিও এখন প্রশ্ন, কোনটা সঠিক , এদিনের ভোটগ্রহণে তৃণমূলের জয় নাকি কলকাতা হাইকোর্টের নতুন করে জারি করা স্থগিতাদেশ। বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শংকর চ্যাটার্জি বলেন, অনাস্থা এনে ১৬জুলাই বনগাঁ পুরসভায় আস্থা ভোট গ্রহন ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। পুলিশ ও তৃণমূল বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। ওই মামলার অভিযোগে ১১ কাউন্সিলর সাক্ষর করেছেন। এদের মধ্যে চার জন তৃণমূলে যোগ দিয়েছে তা কি তারা আদালতকে জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি বনগাঁ থেকে বারাসতের জেলা শাসকের কার্যালয়ে পুলিশ নিরাপত্ত দিয়ে বিজেপির কাউন্সিলরদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেনি। ফলে এদিনের অধিবেশন কার্যত গুরুত্বহীন। কলকাতা হাইকোর্টে বিষয়টি জানানো হলে আদালত মামলাটি গ্রহন করে শুনানির দিন ধর্য করে পুরো প্রক্রিয়াটি বন্ধ রাখতে বলেছে।
বনগাঁ পুরসভায় চেয়ারম্যান নিয়োগে অনাস্থা ভোট নিয়ে জলঘোলার মাঝে বৃহস্পতিবার বিজেপির তরফে দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখর ববি শরাফের এজলাসে বিজেপির কাউন্সিলর দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি শেখর ববি শরাফ। ফলে মামলা করতে গেলে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে যেতে হবে মামলাকারীকে(ওটাই পুরসভার মামলার রেগুলর বেঞ্চ)। রেগুলর বেঞ্চে এই মামলার রায়ের ওপর বোর্ড গঠনের ফল নির্ভর করবে।
বস্তুত, বৃহস্পতিবার অনাস্থা ভোট বৈধ নয় এই অভিযোগ তুলে আদালতের উল্লেখ পর্বে সকাল সাড়ে দশটায় বিচারপতি শেখর ববি শরাফের এজলাসে গিয়ে মামলার অনুমতি চায় বিজেপি। আদালত মামলা করার অনুমতি দিয়েছিল তখন।
বিজেপির হয়ে বৃহস্পতিবার মামলা ফাইল করেছিলেন দীপেন্দু বিকাশ বৈরাগী।
অনাস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার যে বৈঠক ছিল বুধবার রাতে তার নোটিশ পেয়েছি স্পিড পোস্টে। দাবি করে বিজেপি কাউন্সিলর। কোর্টে তার আইনজীবী বলেন, একজন অনাস্থা আনল, তার পর মুহূর্তে অন্য দলে চলে গেল(তৃনমূলে)। কিভাবে হয় এটা?
তখন বিচারপতি শেখর ববি শরাফ মন্তব্য করেন, কারও মন কি আপনি পরিবর্তন করতে পারেন? মিটিং হল লিগাল ইস্যু। ইতিমধ্যেই যা হয়ে গেছে। সেটা বন্ধ করি কিভাবে?
এদিন ভোট পর্ব শেষে বারাসত থেকে বনগাঁ পৌরসভার আস্তা ভোট 14-0 ভোটে জয়ী হয়ে বনগাঁ ফিরে শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে পৌরসভায় নিজের আসনে বসে বনগাঁর উন্নয়নই প্রধান লক্ষ্য বলে জানালেন পৌর প্রধান শঙ্কর আঢ্য l তিনি বলেন, দীর্ঘ তিন চার মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই বনগাঁর উন্নয়ন থমকে গিয়েছে l বনগাঁর উন্নয়নকে শীর্ষে পৌঁছে দেবার জন্য আগের মতই উন্নয়নের উপরে জোর দেওয়া হবে বলে জানালেন l এদিন বিজেপি ভোটে অংশগ্রহণ না করবার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি l তিনি সকলকে আহ্বান করেছেন দলের ঊর্ধ্বে এসে বনগাঁর মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবে সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করবার l
আদালতের রায়ে উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসতে জেলাশাসকের কার্যালয়ের এক নম্বর সভাকক্ষে বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা অধিবেশনে আস্থা ভোট হয়। সকাল ১১টার সময় বনগাঁ পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে ভোট শুরু হওয়ায় সময় নির্ধারিত ছিল। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তৃণমূলের 13 ও কংগ্রেসের 1 কাউন্সিলর জেলা শাসকের কার্যালয়ে ঢোকেন। তবে বিজেপির সাত জনের কেউই এদিন আসেন নি। নিয়ম মেনে সাড়ে 11টা নাগাদ অপেক্ষার পর জেলা শাসক চৈতালী চক্রবর্তীর তত্বাবধানে বনগাঁ পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার গৌরাঙ্গ দাসের উপস্থিতিতে শুরু হয় অনাস্থার অধিবেশন।

No comments:
Post a Comment