এই ছবিটি কোনো পেইন্টিং নয়।। কয়লার রঙয়ের মত অসংখ্য কালো গাছের কঙ্কাল মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বালিয়াড়ির মরুভূমিতে। ওপরে গাঢ় নীল আকাশ। সূর্যের আলো পড়ে পেছনে থাকা বালিয়াড়ির রং বদলাচ্ছে মুহূর্তে মুহূর্তে। ৪৪ কিলোমিটার বিস্তৃত এই ডেড ভ্যালি মরুভূমিটি নামিবিয়ায় অবস্থিত। একসময় এখানে গভীর বন ছিল, কালের বিবর্তনে এখন তা মরুভূমি।
কোনো কোনো মৃত্যু যে অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্যের সৃষ্টি করতে পারে তা আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন এই ডেড ভ্যালিতে গেলে। এই ডেডভ্যালিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম মৃত স্থান বলা হয়। উষ্ণতার দিক দিয়েও এটা পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ স্থান। এই ডেথভ্যালির উচু বালিয়াড়ি এবং অনিন্দ্যসুন্দর দৃশ্য সবাইকে আকৃষ্ট করে। পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক এবং উষ্ণ অঞ্চল এটা। ডেথ ভ্যালির অবস্থান একসময় সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২০০ ফুট নীচে ছিল। আর এখন এই মৃত উপত্যকার বালির স্তুপ তিনতলার সমান উচুও চোখে পড়ে।
বাটির মতো দেখতে এ উপত্যকাটিকে ভয়ঙ্কর বা বিপজ্জনক কিছু একটা বলা যেতে পারে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এখানে, ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অসহ্য গরমে অধিবাসীদের হাঁসফাস অবস্থা। মধ্যপ্রাচ্যের মরু অঞ্চলকেও হার মানায় এখানকার তাপমাত্রা। উপত্যকাটি লম্বায় প্রায় ২২৫ কিলোমিটার আর চওড়া আট থেকে ২৪ কিলোমিটার। পশ্চিম গোলার্ধের সব থেকে শুকনো নিম্নভূমি এটি। এখানকার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র পাঁচ সেন্টিমিটার। জায়গাটির বিভিন্ন স্থানে যে সামান্য জলাশয়ের সৃষ্টি হয় তাও ভীষণ লবণাক্ত। সমগ্র উপত্যকাটি বালুতে পরিপূর্ণ।
পি/ব
No comments:
Post a Comment