দুই বাংলার রাজধানী পুরসভার মধ্যে বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই বাংলার ডেঙ্গু নিধনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। ঢাকা কর্পোরেশেনের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা কলকাতা কর্পোরেশনের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের ভাবনা এবং সরকারের উদ্যোগ এবং কি ভাবে ডেঙ্গু নিধন করতে হবে এবং মানুষকে সচেতন করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কলকাতা সিটি করপোরেশনের অফিসে বিশেষজ্ঞ দল ও ঢাকা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হন।
আর কলকাতা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতার বিশেষজ্ঞ দলে ছিলেন মুখ্য উপদেষ্টা ডক্টর তপন কুমার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর মনিরুল ইসলাম, উপ-স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. সুব্রত রায়চৌধুরী ও চিফ ডিরেক্টর কন্ট্রোল অফিসার ড. দেবাশীষ বিশ্বাস। এছাড়া কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস প্রধান তৌফিক হাসান ভিডিও কনফারেন্স উপস্থিত ছিলেন। ডেঙ্গু সম্পর্কে দুদেশের বাঙালী প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় উঠে আসে। কলকাতা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া আধিকারিকরা বলেন, ধোঁয়া বা কীটনাশক দিয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন করা যাবে না। তাতে দূষণ বাড়বে।মশার কিছু হবে না। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে কি ভাবে ডেঙ্গু নিধন হয়।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ করে ডেঙ্গু নিধন করলে ডেঙ্গু নিধন হবে না। আর জনগণকে এটা বোঝাতে হবে কি করে পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সরকার এবং জনগনের সবার সদিচ্ছা থাকলে তবেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমবে। আমরা শুধু বর্ষাকাল না সারা বছর ধরেই মশার উৎস খুঁজি এবং তা নিধন করি। ডেঙ্গু নিধন করতে ঢাকাকে এভাবেই কলকাতা বোঝালো। আর ডেঙ্গু রোগীদের চিকিতসা সম্পর্কে কলকাতা কপর্রেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের উপদেষ্টা ডক্টর স্বপন মুখার্জি বলেন, ডাবের জল ফলের রস, ঘন ঘন জল খেতে হবে। দেখতে হবে সেই রোগী তিন ঘণ্টা অন্তর অন্তর স্বচ্ছ প্রস্রাব করছে কিনা। তাহলে ধরে নিতে হবে সেই রোগীর ডেঙ্গু ততটা প্রকট নয়। তিনি আরও বলেন, শীতকালেও কাজ করতে হবে ডেঙ্গু নিয়ে।
কারণ ডেঙ্গু বহনকারী মশা জল ছাড়া যে কোনো স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় ডিম পাড়ে। সে ডিম তিন বছর জীবিত থাকে। বর্ষার মৌসুম না থাকলেও স্যাঁতস্যাঁতে বাড়িতে জলের ছোঁয়া পেলে ডিম জেগে উঠবে। এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের প্রধান কাজ হলো সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা অব্দি মশার তেল বা লিকুইড তেল ব্যবহার করা। যাতে মশা না কামড়ায়। আর জল জমতে দেওয়া যাবে না। জটিল ডেঙ্গু রোগী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে রোগীর গাঁটে গাঁটে ব্যথা ধরবে, জ্বর থাকবে, প্রেসার কুড়ি শতাংশ করে কমতে থাকবে, প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নেমে যাবে, কোমরের কাছে ২০ থেকে ২২টা রক্তের ছোপ বা চিহ্ন দেখা যাবে তাহলে সেই রোগীকে অবিলম্বে হসপিটালে ভর্তি করা উচিত।
ভিডিও কনফারেন্স সম্পর্কে কলকাতা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, গত সপ্তাহে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল রহমান আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ঢাকায় যাওয়ার।কিন্তু প্রটোকল সমস্যার কারণে যাওয়া হয়নি।তখন বাংলাদেশের কলকাতাস্হ ডেপুটি হাই মিশনার তৌফিক ইসলাম যোগাযোগ করেন।পরে বাংলাদেশের মন্ত্রী আসেন কলকাতায়। তখন আমাদের মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সাথে দেখা করেন ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে। তখন ঠিক হয় ঢাকার সিটি কর্পোরেশনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আইন তৈরি করা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কি পদ্ধতিতে করতে হবে, নাগরিকদের ভূমিকা কেমন হবে তা আমরা শেয়ার করেছি।
No comments:
Post a Comment