নিজেদের প্রথম স্তরের আত্মীয়দের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক এখন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ। তবে অতীতে তা ছিল না, বিশেষ করে রাজপরিবারগুলিতে। উদাহারন স্বরুপ আমরা ধরতে পারি মিশর, পেরু ইনকা সাম্রাজ্যের শাসনকালে এবং কিছু সময়ের জন্য থাইল্যান্ড, মেক্সিকো, মধ্য আফ্রিকা।
এই ধরনের ঘটনা বাইবেলে উল্লেখ আছে যেখানে লট তার কন্যার সাথে এক হয়েছিলো। কিন্তু এই ধরনের শারীরিক সম্পর্কে মাতাপিতা দ্বারা জন্ম দেওয়া সন্তানের নানান ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়াতে সময়ের সাথে সাথে এই রীতি পরিবর্তন হয়ে যায়। এটি খালি তুতো ভাই বোনদের মধ্যে সীমিত হয়ে যায়। উদাহারন স্বরুপ দেখা যায় স্পেনের হাবসবার্গ সাম্রাজ্যের রাজা চার্লস দ্বিতীয় যে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে মারা যায়।
সে ৪ বছর বয়স আবধি কথা বলতে পারতো না, ৮ বয়স অবধি হাটতে পারতো না। নিজেদের ভাই বোনদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে খারাপ জিন সন্তানের শরীরে সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভবনা বেশী থাকে। কিন্তু সেই ধারনা না থাকাতে আগের রাজপরিবার এবং কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় নিজেদের পরিবারকে একত্রিত রাখতে এবং শক্তিশালী রাখতে এই প্রথাকে নিজেদের রীতি বানিয়ে নিয়েছিলো।
পুরানো মিশরের পৌরাণিক গল্পে তাদের ভগবান নিজের বোনকে বিয়ে করে। যেমন অসিরিস। সে তার বোন ইসিসের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তাদের সন্তান হরাস তখনকার ফারাওদের রক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে। এই রীতি অনুসরন করে ফারাওরা নিজের বোনকে বিয়ে করতো। এর ফলে তাদের সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। তাদের রীতি অনুসারে সবথেকে বড় বোন সিংহাসনের ভাগিদারী পাবে।
কিন্তু মহিলারা ফারাও পদ পেত না সেই পদ দেওয়া হতো তার স্বামীকে। এর ফলে শাসন ব্যাবস্থা নিজের পরিবারের মধ্যে থাকতো। মিশরে তুতানখামুন মমিকে পর্যবেখন করে দেখা গেছে সে খুব দুর্বল বাচ্চা ছিল। তার ম্যালেরিয়া ছিল, হাড় খুব নরম ছিল এবং লাঠি নিয়ে চলাফেরা করতে হতো তাকে। তবু নিজের বোনদের বিয়ে করার রীতি অনেক প্রজন্ম অবধি প্রচলিত ছিল।
পি/ব
No comments:
Post a Comment