গ্রীক শাস্ত্রানুসারে অপরাজেয় অ্যাকিলিসের কাহিনী - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 14 August 2019

গ্রীক শাস্ত্রানুসারে অপরাজেয় অ্যাকিলিসের কাহিনী





হোমারের রচিত মহাকাব্য ইলিয়াড প্রাচীন গ্রীসের এক অন্যতম কাব্য। এই মহাকাব্যে নায়কের চরিত্রে যিনি রয়েছেন তিনি হলেন অ্যাকিলিস। ট্রোজান যুদ্ধের সব থেকে সুন্দর যোদ্ধা ছিলেন তিনি। পরবর্তি কালে প্রচলিত বিভিন্ন কাহিনী অনুসারে অ্যাকিলিস ছিলেন অপরাজেয় এক ব্যাক্তিত্ব কিন্তু শুধু মাত্র গোড়ালি বাদে। গোড়ালি তার শরীরে সব থেকে দুর্বল জায়গা ছিল এবং এই স্থানে তীর লাগার ফলেই তার মৃত্যু হয়েছিলো। এই কারনে গ্রীসে এখনো শরীরের কোন দুর্বল অংশ বোঝাতে অ্যাকিলিস হিল শব্দটি ব্যাবহার করা হয়।



  থেটিস ও পেলেউসের সন্তান ছিলেন অ্যাকিলিস। জেউস এবং পসেইডন দুজনেই থেটিসকে পছন্দ করতো কিন্তু ভবিষ্যৎবাণী ছিল যে থেটিসের সন্তান তার পিতার তুলনায়ে বেশী শক্তিশালী হবে। তাই তারা দুজনেই বিবাহের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করেন এবং পেলেউসের সঙ্গে থেটিসের বিবাহ হয়। অ্যাকিলিসের জন্ম হলে তাকে অমর করার জন্য থেটিস তাকে গোড়ালি ধরে স্টিক্স নদীতে নিমজ্জিত করেন। এর ফলে অ্যাকিলিস অপরাজেয় হয়ে ওঠে কিন্তু গোড়ালি তার দুর্বলতা থেকে যায়। অ্যাকিলিসকে নিয়ে দুটি ভবিষ্যৎবাণী ছিল যার মধ্যে প্রথমটি ছিলো হয় সে একঘেয়ে দীর্ঘ জীবন কাটাবে অথবা মহিমান্বিত ক্ষুদ্র জীবন পার করবে যা শেষ হবে যুদ্ধক্ষেত্রে। দ্বিতিয়টি ছিলো এই, একিলিসকে ছাড়া কখনই ট্রয় বিজয় সম্ভব না। 




ট্রোজানের যুদ্ধে মেনিলাউস ওডিসাসকে নিয়ে ট্রয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন তারা ট্রয়ে পৌছুলো, কেউই নামতে চাচ্ছিলো না। কারণ ভবিষ্যতবাণী মতে, ট্রয়ের মাটিতে পা রাখা প্রথম গ্রীক সবার আগে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। ওডিসাস সিদ্ধান্ত নেয় প্রথমে নামার, কিন্তু নামবার আগে ওডিসাস তার ঢাল আগে মাটিতে ফেলে নেন, যার ফলে তার পরে নামা প্রটেসিলাস হন ট্রয়ে পা দেওয়া ও সবার আগে মৃত্যুবরণ করা গ্রিক, তিনি মারা যান ট্রয়ের রাজপুত্র হেক্টরের হাতে।  গ্রিকরা ট্রয় অবরোধ করে রাখলো নয় বছর, কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছিলো না।




 কারণ, তখনও ট্রয় এশিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারছিলো, যার ফলে তাদের রসদের কোন অভাব হচ্ছিলো না। এ সময় গ্রিক শিবিরে ছড়িয়ে পড়ে অশান্তি আর ক্ষোভ, তারা ফিরে যাওয়ার দাবি করে, কিন্তু একিলিস তাদের আরও কিছুদিন থাকবার জন্য রাজি করায়।  যুদ্ধের দশম বছরে এপোলোর পূজারী ক্রিসেস এগমেননের কাছে আসে তার মেয়ে ক্রিসেইসকে ফিরিয়ে নিতে, যাকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এগমেনন। এগমেনন তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ক্রিসেসের অনুরোধ অবজ্ঞা করলে ক্রিসেস এপোলোর কাছে প্রার্থনা করে সাহায্যের জন্য। গ্রিক শিবিরে নেমে আসে মৃত্যুর ছায়া, আকড়ে ধরে প্লেগ। এগমেমনন ক্রিসেইসকে ফিরিয়ে দেন ঠিকই, কিন্তু চেয়ে বসেন একিলিসের সবচেয়ে প্রিয় উপপত্নীকে। এগমেননের হাতে উপপত্নীকে তুলে দিলেও ক্ষিপ্ত একিলিস সাফ জানিয়ে দেন, তিনি যুদ্ধ করবেন না।





একিলিস ছাড়া শুরুতে কিছু লড়াইয়ে গ্রিকরা জয়লাভ করলেও, একসময় হারতে শুরু করে।  পিছু হটতে হটতে গ্রিকরা পৌছে যায় সাগরতীরে। ট্রোজানরা গ্রিক জাহাজে আগুন প্রায় ধরিয়েই দিয়েছিলো। উপায় না দেখে একিলিসের প্রিয় বন্ধু প্যাট্রোক্লাস একিলিসের বিশেষ বর্ম আর ঢাল নিয়ে হাজির হয়, তাকে একিলিস ভেবে গ্রিক আর মিরমিডন সৈন্যদের রক্তে বয়ে যায় নতুন উদ্যম, তারা আবার অনুপ্রাণিত হয়ে যুদ্ধ শুরু করে।




   কিছুক্ষণ পরেই ট্রয়ের যুবরাজ ও বীর যোদ্ধা হেক্টরের হাতে মারা পড়েন প্যাট্রোক্লাস, যদিও হেক্টর তাকে মেরেছিলেন একমাত্র এই কারণে যে, তিনি ভেবেছিলেন প্যাট্রোক্লাসই একিলিস। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর সংবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন একিলিস, তারই বদলা নিতে হেক্টরকে মেরে মৃতদেহ রথের পিছনে বেঁধে ট্রয়ের বিখ্যাত দেয়ালের সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে এনে নিয়ে আসেন গ্রিক শিবিরে, যেখানে বীর হেক্টরের স্থান হয় ময়লার স্তুপে। তবে পরে প্যারিসের ছোড়া তীরে একিলিস মারা যান বলে ধারনা, আর এই তীরটি একিলিসের গোড়ালিতে আঘাত বিঁধিয়েছিলেন স্বয়ং এপোলো।



পি/ব 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad