অ্যাজটেক হচ্ছে মধ্য মেক্সিকোতে বসবাসকারী এক আদি জনগোষ্ঠী যারা নাহুয়াতিল ভাষায় কথা বলতো। ১৪শ থেকে ১৬শ শতক পর্যন্ত এরা মেসোআমেরিকার বিরাট একটি অংশে রাজত্ব করতো। ‘অ্যাজটেক’ বলতে তাদের রাজধানী টেনোচতিতলান’এর বাসিন্দাদের বুঝানো হতো যেখানে বর্তমান মেক্সিকো সিটি গড়ে উঠেছে। ১৩শ শতকে এদের উদ্ভব হলেও ১৫শ শতকের মধ্যেই এরা এই শহরকে কেন্দ্র করে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন সংস্থা গড়ে তোলে যার ফলে আশেপাশে অনেক নগরকে তারা আয়ত্বে আনতে সক্ষম হয়।
আমেরিকার উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শিকারি গোত্র একত্রিত হয়ে এই অঞ্চলে আসে যাদের আদিভূমি ছিল ‘আজলাতান’ বা ‘হোয়াইট ল্যান্ড’। তাদের আগমনের পর ততকালীন রাজত্বকারী মেসোআমেরিকান জাতি টোলটেকসদের পতন ঘটে। অ্যাজটেকরা কৃষিকাজে বেশ দক্ষ ছিল। মাছ ও বিভিন্ন প্রাণীও শিকার করতো তারা। সামরিক দিক থেকেও খুব দক্ষ ছিল এই অ্যাজটেক জাতিগোষ্ঠী। একারণেই অল্প সময়ে তারা বিশাল অ্যাজটেক সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। অ্যাজটেকদের ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল বহুমাত্রিক এবং এদের দেবতা ছিল অনেক।
দেবতাকে তুষ্ট করার জন্য এরা মানুষ বলিতে বিশ্বাস করতো। অ্যাজটেক সাম্রাজ্যের শহরগুলোতে প্রচুর মন্দির, মূর্তি আর প্রাসাদ পাওয়া যায়। অ্যাজটেকদের যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কতগুলি নিয়মাবলী ছিল এবং তা বিয়ের পর করার প্রথা ছিল। কেউ যদি সেই নিয়ম ভঙ্গ করত তাহলে তার শাস্তি সরূপ মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারত। অন্যান্য সভ্যতার মতো যৌন দাসি প্রথা এখানেও চালু ছিল এবং তাদের সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া হতো।
যদিও বিয়ের পর যৌনতার প্রচলন ছিল কিন্তু সাংস্কৃতিক কারনে তার ব্যাতিক্রম হতে পারত। কোন পুরুষকে বলি দেওয়ার এক মাস আগে তাকে চার জন মহিলার সাথে থাকতে দেওয়া হতো এবং সে ইচ্ছে মতো ভোগ করতে পারত। আবার কোন মহিলাকে বলি দেওয়ার আগে তাকে রাজার হাতে তুলে দেওয়া হতো ভোগ্য হিসাবে। শুধু তাই নয়, মৃত্যু ছিল বেদনাদায়ক। মহিলার গায়ের ছাল তুলে রাজার পরিধেয় তৈরি হতো। সমলৈঙ্গিক সম্পর্ক সম্পুর্ন নিষিদ্ধ ছিল এই সভ্যতায়ে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment