আমাদের প্রতিবেশী দেশের কিছু ঐতিহাসিক স্থান - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 11 August 2019

আমাদের প্রতিবেশী দেশের কিছু ঐতিহাসিক স্থান





আমাদের প্রতিবেশী রাস্ট্র বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময়ে এটি বিভাজিত হিয়ে পাকিস্তানের অধীনে চলে যায় এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধিনতা লাভ করে। ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৫২টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এসব প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু স্থান হল   আহসান মঞ্জিল আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল গণি, এটি পুরাণ ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। ১৮৫৯ সালের ভবনটির নির্মান শুরু হয় এবং শেষ হয় ১৮৭২ সালে। নওয়াব আবদুল গণি তার ছেলের নাম অনুসারে ভবনটির নাম দেন আহসান মঞ্জিল। এ ভবনটি অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী যেমন ১৯০৬ সালে এই ভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে ভবনটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 




উয়ারী বটেশ্বর ঢাকা থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হচ্ছে উয়ারী বটেশ্বর। মাটির নিচে অবস্থিত দুর্গ-নগরীটি এটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো।   কান্তজীউ মন্দির দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার এবং কাহারোল উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে সুন্দরপুর ইউনিয়নে, দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেঁপা নদীর তীরে একটি প্রাচীন মন্দির হচ্ছে কান্তজীউ মন্দির। তিনতলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রত্ন ছিলো বলে এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত।




মন্দিরটি ১৮ শতকে নির্মিত চমৎকার একটি ধর্মীয় স্থাপনা। এটি কৃষ্ণের মন্দির হিসেবে পরিচিত যা লৌকিক রাধা-কৃষ্ণের ধর্মীয় প্রথা হিসেবে প্রচলিত। মহারাজা সুমিত ধর শান্ত এখানেই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়।    পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। এটি সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার নামেও পরিচিত। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন। ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এটি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে। ৩০০ বছর ধরে এটি চীন, তিব্বত, মায়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধদের কাছে বিখ্যাত ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জনের কেন্দ্র ছিল। 




বড়কুঠি বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলের সর্বপ্রাচীন ইমারতের নাম বড়কুঠি। ভিন্ন সুত্র মতে ধারণা করা হয় বড়কুঠির নির্মাণকাল অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। প্রথমে ওলন্দাজ বা ডাচদের বাবসাকেন্দ্র ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ডাচরা ভারতে যখন তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৮১৪ সালে ইংরেজদের সাথে একটি চুক্তি করে বড়কুঠিসহ ভারতের সকল বাবসা কেন্দ্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে হস্তান্তর করে। ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত এটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথম প্রশাসনিক ভবন হিসাবে বড়কুঠিকে ব্যবহার করা হয়।


পি/ব 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad