আমাদের মাঝের যেকোন বিশেষ ঘটনাই ইতিহাস হয়। আর সেই ইতিহাস কালক্রমে পরিণত হয় মিথ এ। তবে সেই মিথ এর পিছনেও শ্বাস নিতে থাকে লুকায়িত জরাজীর্ণ ইতিহাস। আমরা কথায় কথায় বলি মহাভারত অশুদ্ধ। এই মহাভারত যে কখনই সাহিত্য হিসেবে অশুদ্ধ হতে পারেনা, সেই কথা আমরা বলে থাকি নিজ থেকেই। তবে আজকের ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করছেন যে আদতে মহাভারতের যুদ্ধ হয়েছিল।
তারা মহাভারতের কাল নির্দেশ করেন বৈদিক অন্ধকার যুগ যা প্রায় ১২০০-৮০০ খ্রিস্টপূর্ব এর মধ্যে বিস্তৃত ছিল, এর ঠিক পূর্বের সময়কাল কে। এই বিষয়ে আমরা সর্বপ্রথম জানতে পারি জয় বা আদি মহাভারত থেকে। এই কাব্যটি মূলত আমাদের ভারতের উত্তরে অবস্থানকারী নিচু জাতের জেলে আর রাখালদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। তারা একে অবসর সময়ে গান হিসেবে ব্যক্ত করত আর তাদের উৎসবে এর ব্যবহার ছিল।
আমরা হয়ত অনেকে জানিনা যে কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন আদতে ছিলেন জাতে জেলে। এই যুদ্ধ হয়েছিল ১৬ মহাজনপদের মধ্যে সবথেকে দুই বড় মহাজনপদ কুরু আর পাঞ্চাল এর মাঝে। তাদের সিংহাসনের দাবি নিয়ে। এই যুদ্ধে না কেউ নায়ক ছিল আর না খলনায়ক। শুধু রাজ্যলিপ্সাই প্রধান ছিল এই যুদ্ধের মাঝে।
সর্বপ্রথম মহাভারতের ২০ হাজার শ্লোক এর মাঝে আমরা দেখতে পাই অর্জুন, ভীষ্ম, সূর্যধন(দুর্যোধন) দের কথা। তবে এরা ঐতিহাসিক চরিত্র নাকি শুধুই একদল রূপক যোদ্ধা, সেটি আজকে আর জানার উপায় নেই আমাদের মাঝে। এই যুদ্ধে সর্বমোট ১৮ অক্ষহোনী (১ অক্ষহোনী ৩২০০০০ সৈন্য) সৈন্য অংশ নেয়। এই যুদ্ধের পরে বৈদিকরা প্রায় ৪০০ বছর যাবত অন্ধকার যুগে পতিত হন।
পি/ব
No comments:
Post a Comment