প্রাচীন গ্রীকের পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে জিউস এবং লেডারের কন্যা ছিলেন হেলেন। তার বিবাহ হয় স্পার্টার রাজা মেনিলাউসের সাথে। ক্যাস্টর, পলিডিউসিস এবং ক্লিটেমনেসট্রা ছিল তার ভাই-বোন। ট্রয়ের রাজপুত্র প্যারিসের সাথে তিনি স্পার্টা থেকে পালিয়ে গেলে মেনিলাউস যুদ্ধ ঘোষণা করেন। মাত্র একজন নারীকে উদ্ধার করতে এজিলান সাগর পাড়ি দিয়েছিলো এক হাজার জাহাজ।
এমনি রূপ এবং গরিমা ছিল তার। তবে এই সৌন্দর্যই তার জীবনে পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তার কারনে হাজার হাজার যোদ্ধা ট্রয়ের রণক্ষেত্রে প্রান দিল এবং ধ্বংসের মুখে চলে গেল পুরো সাম্রাজ্য। অনেকে মনে করেন হেলেন নামে কেউ ছিলেনই না। দেবী আফ্রোদিতিই হেলেন নাম নিয়ে মর্ত্যে নেমে এসেছিলেন। তারপর আশ্রয় নিয়েছিলেন স্পার্টার রাজা টিন্ডারাসের প্রাসাদে।
১৮৩৩ এবং ১৮৪১ সালে হেলেনের দুটি প্রাচীন মন্দির উদ্ধার হয়েছে। এর থেকে একটি কথা স্পষ্ট যে স্পার্টার অনেক মানুষ হেলেনকে দেবী হিসাবে পুজা করতো। যদিও জিউস কন্যা হিসাবেও অনেক জায়গায়ে তার বর্ননা পাওয়া যায়। তবে প্রত্নতাত্বিকদের মতে হেলেন হলেন উর্বরতার দেবী। গ্রিক ভাষায় ট্রয়কে বলা হয় ত্রাইয়া বা ইলিয়ন। প্রাচীন গ্রিসের অনেক মহাকাব্যেই ট্রয়ের উপস্থিতি দেখা যায়।
হোমারের দুই মহাকাব্যর একটি ইলিয়াড। ইলিয়াডের অনেক খানি অংশ জুড়ে আছে ট্রয়। হাইনরিথ স্লাইন্ম্যান নামে এক জার্মানীর ব্যাবসায়ী শেষ পর্যন্ত আবিস্কার করে এই ট্রয় নগরী। তুরস্কের আনাতোলিয়া অঞ্চলের হিসারলিক নামক জায়গায এটি অবস্থিত। স্থানীয় ভাষাতে এই জায়গাতী ত্রুভা নামে খ্যাত। বর্তমানের হিসারলিক শহর প্রাচীন কালে ছিল ট্রয় নগরী।
পি/ব
No comments:
Post a Comment