জাপানের কথা মনে হলে আমাদের মাথায় অল্প যে কয়টি শব্দ চলে আসে, ‘সামুরাই’ তার মাঝে একটি। চতুর্দশ শতকে জাপানে সামুরাই সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের গৃহে আশ্রিত বালকদেরকে শয্যাসঙ্গী হিসেবে নিতে শুরু করে দিয়েছিল। একজন বয়স্ক লোকের ভালোবাসার মানুষটি হতো একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে। তাদের মাঝে এতটাই প্রচলিত ছিল যে, একবার এক সামুরাই বলেছিলেন, “একজন আশ্রিত, অল্পবয়স্ক ভালোবাসার বালক ছাড়া একজন পুরুষ যেন বাগদত্তবিহীন এক তরুণীরই মতো।”
অবশ্য গ্রিকদের মতো দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মাঝে ভালোবাসাকে জাপানীরা অন্যভাবে দেখতো না। তাদের এটা বরঞ্চ ছিল ‘দুটো বৃদ্ধ চেরিগাছের এখনও ফুল দিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, স্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের চেয়ে সমকামিতার বিষয়ে ততকালীন জাপানী সমাজ কিছু ক্ষেত্রে বেশি সহনশীল ছিল। কোনো কোনো জাপানী পুরুষ তো নারী-পুরুষের ভালোবাসাকে একেবারেই অসহ্য বলে মনে করতো। চীনাদের মতো জাপানীরা সমকামিতায় লিপ্ত হলেও বংশরক্ষার্থে বিয়ে করতো একজন নারীকেই।
তবে কারো কারো কাছে সেটা ছিল বেশ বড়সড় এক বোঝা। ভালোবাসা কি পুরুষে-পুরুষে হওয়া উচিত নাকি নারী-পুরুষে, তা নিয়ে প্রায় সময়ই তর্ক জমে উঠতো। একেক পক্ষ সেখানে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে একেকরকম যুক্তি উপস্থাপন করতো। কেউ কেউ এতটাই নারীবিদ্বেষী থাকতো যে, সমকামিতার পক্ষে সাফাই গাইতে বলে উঠতো, “নারী এমনই এক সৃষ্টি, যার আসলে কোনো প্রয়োজনীয়তাই নেই, অপরপক্ষে সমকামিতাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা।”
পি/ব
No comments:
Post a Comment