আমরা প্রতিদিন অনেক নতুন বা পুরানো প্রতীক বা চিহ্নের মুখোমুখি হই। তাদের মধ্যে অধিকাংশ চিহ্নের সৃষ্টির কারণ এবং অর্থ আমাদের অজানা। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এসব প্রতীক একদিকে যেমন অতীতের স্মারক বহন করে তেমনি বর্তমান কালেও এসবের ব্যবহার আমাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে আছে। তেমনি কিছু প্রতীক বা চিহ্ন দেখে নেওয়া যাক।
অ্যাস্প্লিপিয়াসের লাঠি পৌরাণিক কাহিনী থেকে জানা যায় দেবতা অ্যাপোলো এবং রাজকুমারী কোরোনিসের পুত্র অ্যাস্প্লিপিয়াস গ্রীক মেডিসিনের দেবতা ছিলেন। তাঁর মানুষকে সুস্থ করা এমনকি মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করার ক্ষমতাও ছিল। আর প্রাচীন গ্রীকরা সাপকে পবিত্র হিসাবে মনে করতো তাই অ্যাস্প্লিপিয়াসের লাঠিটি সাপের চারপাশে আটকে থাকা সাপের প্রতীক বর্তমানেও চিকিৎসা সেবার সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাল্টিস ক্রস মাল্টিস ক্রস প্রতীকটি মাল্টীয় দ্বীপপুঞ্জের মাল্টা নাইটস এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। ১৫৩০ থেকে ১৬৯৮ সাল পর্যন্ত মাল্টা নাইটসদের অস্তিত্ব বিরাজমান ছিল। মাল্টিস ক্রসের আটটি বিন্দু মাল্টা নাইটদের আটটি অঙ্গীকারকে নির্দেশ করে। আটটি অঙ্গীকার হচ্ছে – ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা, সদা সত্যে সঙ্গে বাস করা, বিশ্বাস অটুট রাখা, নম্রতার সাথে শুভেচ্ছা জানানো, দয়াবান হওয়া, সুখী ও আন্তরিক হওয়া, একজনের পাপে অন্যজন অনুতাপ করা এবং নিপীড়ন সহ্য করা।
নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক আমরা সবচেয়ে বেশি যে লোগো দেখে অভ্যস্ত তা হচ্ছে কোন নামের পাশে উপরের কোণায় একটি বৃত্তের মধ্যে R লিখা। আর এর মানে হল উক্ত নাম বা লোগো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত একটি ট্রেডমার্ক। হাতুড়ি ও কাস্তে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতীকের মধ্যে হাতুড়ি ও কাস্তে বহুল প্রচলিত একটি প্রতীক। বর্তমানে এই হাতুড়ি এবং কাস্তে সারা বিশ্বে শ্রমিক-কৃষক শ্রেনীর প্রতিনিধিত্বের স্মারক হিসাবে আবির্ভুত হয়েছে। তবে ইউরোপীয়ান ধর্মীয় মতবাদ অনুসারে হাতুড়ি আক্রমণাত্মক পুরুষ এবং কাস্তে মৃত্যুর প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রবেশের চিহ্ন হুইলচেয়ারে বসা একজন মানুষের প্রতিকৃতি ব্যবহার করে ১৯৬৮ সালে সুসানে কইফোয়েড এই প্রতীকটি নকশা করেন। যা হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নত প্রবেশ পথ নির্দেশ করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বর্তমানে অন্যান্য শারীরিক অক্ষমতা নির্দেশ করতেও এই প্রতীক ব্যবহার করা হয়। পাওয়ার প্রতীক শুরুতে সুইচের এক প্রান্তে অন এবং অন্য প্রান্তে অফ লেখা থাকলেও পরবর্তীতে সুইচের অন/অফ শব্দগুলোকে ১ এবং ০ প্রকাশ করা শুরু হয়। আর শুধুমাত্র একটি পাওয়ার বোতামে অন বা অফ প্রকাশ করতে ১ এবং ০ একে অপরের উপর আরোপিত হওয়ার এই প্রতীক বিপুল পরিচিতি লাভ করে।
গোলাপী ফিতে আন্তর্জাতিক ভাবে ১৯৭৯ সাল থেকে স্তন ক্যান্সারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই গোলাপী ফিতে নারীদের স্বাস্থ্য, জীবনীশক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়নের স্বরূপ প্রকাশ করে। ব্লুটুথ প্রতীক প্রাচীন ডেনমার্কের শাসক হেরাল্ড ব্ল্যাটান্ড ব্লুবেরী ফলের প্রতি বিশেষ ভালোবাসার জন্য ‘দ্য ব্লু টুথ’ নামে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানের ব্লুটুথ প্রতীকটি মূলত দুটি স্ক্যান্ডিনেভিয়ানের বর্ণমালার অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত বি অক্ষর রাজা হেরাল্ড ব্ল্যাটান্ড নামের আদ্যক্ষর এবং এটিই বর্তমানের বহুল প্রচলিত ব্লুটুথের প্রতীক।
বহির্গমন চিহ্ন বহির্গমন চিহ্ন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রতীক। সাধারণত এই চিহ্নটি জরুরী অবস্থায় বাহিরে যাওয়ার পথ নির্দেশ করে। তাছাড়া ১৯৮৫ সালে আন্তর্জাতিক ভাবে ট্রাফিক লাইটে সবুজ আলোয় ‘গমন’ নির্দেশ করতে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
পি/ব
No comments:
Post a Comment