পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলা হল পুরুলিয়া। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। কথায়ে বলে রতনে রতন চেনে। ঠিক সেই রকম ভাবেই বিখ্যত চলচিত্র পরিচালক বাংলার সত্যজিত রায় “হীরক রাজার দেশে” করতে গিয়ে চীনে নিয়েছিলো পুরুলিয়াকে। এখানকার জয়চন্ডি পাহাড়ে হয়েছিলো সিনেমার সুটিং। আস্তে আস্তে সমস্ত চিত্র পরিচালকদের কাছে এক অন্যতম ল্যাণ্ডস্কেপ হয়ে উঠেছে পুরুলিয়া। পরিচালকদের কাল্পনিক গ্রাম এবং প্রেক্ষাপট তৈরীর জায়গাও হয়ে উঠেছে পুরুলিয়া। তাই , বিগত কয়েক বছরে খ্যাতনামা পরিচালকরা তাঁদের সিনেমার বেশীরভাগ অংশ আবার কখনও পুরো অংশই শুটিং করে গিয়েছেন এখানে।
জেলার বৈচিত্রপুণ প্রাকৃতিক সৌন্দযকে সেলুলয়েডে বন্দী করার লোভ সামাল দিতে পারেননি তাঁরা। স্থানীয় প্রতিভাবান ও দক্ষ কলাকুশলী পেয়ে যাওয়ায় একটা বাড়তি সুবিধে ও সুযোগ রয়েছে এই জেলায়। টলিউডের খ্যাতনামা চিত্র ও ধারাবাহিক পরিচালকদের কথায় , এখানে নদী , পাহাড় , বন – জঙ্গল , আদর্শ গ্রাম – সবই রয়েছে। সর্বোপরি এখানকার মানুষজন অতি সহজ সরল। সবরকম সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন তাঁরা। গত তিন বছরে অনেক বিখ্যাত পরিচালক পুরুলিয়ায় শুটিং করে গেছেন যাদের মধ্যে উল্লেখ্য বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত , গৌতম ঘোষ , রাজ চক্রবতীর মতো বিখ্যাত চলচিত্র পরিচালকরা।
এর কয়েক বছর মাত্র আগে এই পুরুলিয়াতে শুটিং করে গেছেন ইতালির চিত্র পরিচালক ইটালো স্পিমেলি। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত উত্তরা ছবিটির শুটিং করেছিলেন পুরুলিয়ায় , এরপর , ‘ মন্দ মেয়ের উপখ্যান ‘ ‘ জানালা ‘ মতো পূণদৈঘর ছবি ছাড়াও দূরদর্শনে জন্য ধারাবাহিক। এসবের চিত্রগ্রহণ পুরুলিয়ার প্রেক্ষাপটে করেন তিনি। গৌতম ঘোষ তাঁর ‘ শুন্যঅংক ‘ ছবির জন্য প্রথম বার আসেন পুরুলিয়ায়। অযোধ্যা পাহাড়ে ছবিটির শুটিং করতে গিয়ে মুগ্ধ হয়ে যান তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন ‘ পদ্মা নদীর মাঝি ‘র পরিচালক।
কলকাতার এত কাছে পুরুলিয়ার মতো এত ভাল শুটিং স্পট পাওয়া সত্যিই দুর্লভ। নিজের প্রলয় ছবির শুটিং করতে পুরুলিয়ায় এসে সঙ্গে সঙ্গেই পুরুলিয়াতেই নিজের দ্বিতীয় ছবির শুটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন রাজ চক্রবতী। সম্প্রতি সেই ছবিটির শুটিং পুরুলিয়ায় করে গেলেন তিনি। পুরুলিয়ায় শুটিং করা প্রসঙ্গে এই পরিচালকরা সবাই একযোগে বলেন পুরুলিয়া এমন একটা জেলা যেখানে সব রকমের ভূপ্রকৃতি পাওয়া যায়। বৈচিত্রপূণ জনপদ ও মানুষেরও দেখা মেলে এখানে। তাই এক জায়গায় থেকে সব রকমের শুটিং করা সম্ভব এখানেই।
তাতে খরচ অনেকটাই কমে যায় ছবি তৈরীর। পুরুলিয়ায় ছবি তৈরীর পরিবেশ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জেলার প্রবীণ নাট্য কর্মী কুচিল মুখোপাধ্যায় বলেন , পুরুলিয়ার সব প্রান্তেই রয়েছে দু’ চোখ ভরে উপভোগ করার মতো প্রাকৃতিক সৌন্দয। বষায় পুরুলিয়ার এক রুপ তো বসন্তে প্রকৃতির অন্য পুরুলিয়ায়। আবার শীত ও গ্রীষ্মে সম্পুন আলাদা ছবি এই জেলায়। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও পরিচালকরা এখানে সব রকমের সাহায্য পেয়ে থাকেন বলে জানান তিনি। Posted 6 hours ago by ইন্দ্র Labels: World
পি/ব
No comments:
Post a Comment