বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর পশ্চিমবঙ্গের এক অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এখানে প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসেন। বিষ্ণুপুর মল্লরাজাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত টেরাকোটা শৈলীতে মাকড়া বা ল্যাটেরাইট পাথরে নির্মিত স্থাপত্যের জন্য প্রসিদ্ধ। ১৪০০ সালে মল্লরাজ জগতমল্ল বাঁকুড়ার জেলার এই শহরে নিজেদের রাজধানী প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বৈষ্ণবাচার্য শ্রীনিবাসের দ্বারা অনুপ্রানীত হয়ে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেন।
তিনি প্রথম মদনমোহন পূজার সূত্রপাত ঘটান। রঘুনাথ বীরত্ব আর মল্ল যুদ্ধের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। সেই সময় থেকেই মল্লরাজারা নতুন বছর মল্লাব্দের সূচনা করেছিলেন। মল্লভূমের প্রতিষ্ঠাতা বলে বীর মল্লরাজ রঘুনাথকেই স্বীকার করে নেওয়া হয়। বীর হাম্বীরের পুত্র রঘুনাথ সিংহ বিষ্ণুপুরের প্রথম রাজা যিনি ক্ষত্রিয় সিংহ উপাধি ব্যবহার করেন। এই উপাধি মুর্শিদাবাদের নবাব তাঁকে প্রদান করেছিলেন। শুধু বীরত্বের জন্যই নয়, তাঁর রাজত্বেই গড়ে উঠেছিল জগদ্বিখ্যাত লাল পোড়ামাটির অনবদ্য শৈল্পিক সৃষ্টি টেরাকোটার শ্যাম রায়, কালাচাঁদ মন্দির, জোড়বাংলা। অবশ্য রাজা বীর সিংহ পরবর্তীকালে বিষ্ণুপুর দুর্গটি তৈরি করেন।
রঘুনাথ সিংহের রাজত্বকাল থেকেই বিষ্ণুপুর রাজ্যের স্বর্ণযুগের সূচনা ঘটে। তার আমলে বিষ্ণুপুরে নয়নাভিরাম প্রাসাদ ও মন্দিরাদি নির্মিত হয়। রঘুনাথের আমলেই বিষ্ণুপুরের সংগীত চারদিকে বিখ্যাত হয়ে পড়ে। এই রঘুনাথকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যের অনেক প্রাচীন প্রেমকাহিনী আছে। জানা যায়, বরোদার পাঠান রহিম খাঁকে খুন করে সেখানকার সব লুট করা ধনরত্নের সঙ্গে রহিম খাঁর অসাধারণ রূপসী বেগম নর্তকী লালবাঈকে রঘুনাথ নিয়ে আসেন এই বিষ্ণুপুরে।
নর্তকী লালবাঈয়ের রূপ-সৌন্দর্যে ভুলে রাজকাজও ভুলতে থাকেন রঘুনাথ। শুধু তাই নয়, লালবাঈয়ের মোহে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাঁর প্রজাদেরও ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তর করাতে শুরু করেন রঘুনাথ। রঘুনাথের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হন রঘুনাথের প্রথম স্ত্রী। একদিন তিনি স্বামী রঘুনাথকে হত্যা করেন এবং সেইসঙ্গে বিষ্ণুপুরের আটটি বাঁধের অন্যতম বাঁধ লালবাঁধের দীঘির পানিতে লালবাঈকে ডুবিয়ে মেরে ফেলে স্বামী রঘুনাথের সঙ্গে জ্বলন্ত চিতায় সতী হন পতিঘাতিনী রঘুনাথের স্ত্রী।
পি/ব
No comments:
Post a Comment