খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দে গ্রিকরা এই আর্টেমিস মন্দির নির্মাণ করে। মন্দিরটি লম্বায় ৩৭৭ ফুট ও প্রস্থে ১৫১ ফুট। দেবীর মূর্তির ঘরের চারিদিকে দুই সারিতে ৩৬টি কলাম ছিল। যার উচ্চতা ছিল ৪০ ফুট। এটিই গ্রিকদের প্রথম মন্দির যেটি পুরোটা মার্কেল পাথর দিয়ে তৈরি। এর ছাদ তৈরি করা হয়েছিল নকশা করা কাঠ দিয়ে। এ মন্দিরটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল ১২০ বছর। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে এক ভয়াবহ বন্যায় মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মন্দিরের অনেকাংশ বালু ও পলিমাটিতে চাপা পড়ে।
পরে খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০ অব্দে এর পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লাগে ১০ বছর। এ মন্দির নিয়ে একটি মজার গল্প প্রচলিত আছে। যেকোন মূল্যে বিখ্যাত হওয়ার জন্য হিরোস্ট্রাটাস নামে এক ব্যক্তি খ্রিস্টপূর্ব ৩৫৬ অব্দে মন্দিরটিতে আগুন লাগয়ে দেয়। তিনি ভেবেছিলেন এ কাজটি করলে বিশ্বব্যাপী খবর হবে এবং তার নাম ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য, বিচারে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং তার নাম প্রকাশে বা উচ্চারণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অমান্য করলে শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড।
গ্রিক ও রোমান ইতিহাস মতে হিরোস্ট্রাটাস কর্তৃক মন্দিরটি ধ্বংসকালে আলেকজান্ডারের জন্ম হয়। পৌরাণিক কাহিনী মতে দেবী আর্টিমিস জানতো তার মন্দির রক্ষা করতে আলেকজান্ডার পৃথিবীতে আসছেন। আলেকজান্ডার এ মন্দিরটি তৈরির উদ্যোগ নিলে ইফেসাসের লোকেরা কৌশলে আপত্তি জানায়। পরে আলেকজান্ডারের মৃত্যু হলে তারা নিজেরা মন্দিরটি পুনঃনির্মাণ করে। তবে এবার মন্দিরটি আয়তনে আগের চেয়ে বড় ছিল। লম্বায় ৪৫০ ও গ্রন্থে ২২৫ ফুট এবং উঁচু ৬০ ফুট করা হয়।
কলাম ছিল ১২৭টি। কাজ শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩ অব্দে। অনেক বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলে। ২৬৮ সালে পূর্ব জার্মানির গোথ উপজাতি আক্রমণ করে এটি ধ্বংস করে দেয়। জাহাজে করে লুটপাট সামগ্রী নিয়ে তারা চলে যায়। প্রায় ৬০ বছর খোঁজাখুঁজির পর ১৮৬৯ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের অনুসন্ধানী দলের উদ্যোগে এ মন্দির আবিষ্কৃত হয়। খননকার্য চলে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত।
পরে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের ডেভিড জর্জ হগার্থের নেতৃত্বে ১৯০৪ থেকে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত পুনরায় খননকার্য চলে। এ সময় খননকালে তিনি তিনটি মন্দির ভবন দেখতে পান। পরে ১৯৮৭-৮৮ সালে পুনঃখনন করা হলে প্রাপ্ত মন্দিরের অংশবিশেষ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায় ব্রোঞ্জ যুগে বা খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এটির অস্তিত্ব ছিল।
পি/ব
No comments:
Post a Comment