বর্তমান যুগে ছেলে মেয়ে একসঙ্গে লিভ ইন করছে, সমকামিতা স্বীকৃতি পাচ্ছে, আবার সেই দেশে পরকীয়াও বৈধতা পাচ্ছে। এসব এই যুগের ছেলে মেয়েরা মেনে নিলেও এখনও মেনে নিতে পারেনি আমাদের পূর্ব প্রজন্ম।কিন্তু এখনও এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে খোলাখুলি ভাবে কিছু কাজ হয়। এটাই সেই জায়গার রীতি। রাজস্থানে একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে লিভ ইন করাই সেই জায়গার ঐতিহ্য। বিয়ে করার আগে সেখানে সন্তানের জন্ম দেওয়া কোন অপরাধ নয়।সেখানে এটা যেকোন মেয়ে নিজের ইচ্ছায় করতে পারে।
এটার সম্পূর্ন অধিকার রয়েছে মেয়েদের ওপর। সেই ক্ষেত্রে একটি মেয়েই বেছে নিতে পারে তার পছন্দ মত ছেলে। মেয়েরা নিজের পছন্দের ছেলে বেছে নিয়ে তার সঙ্গে লিভ ইন করতে পারে।লিভ ইন রিলেশনে থাকার সময় সে সন্তান জন্ম দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা নেই। আপনি জানলে অবাক হবেন যে ৭০ বছরের এক মহিলা বিয়ে করেন তার থেকে ১০ বছরের ছোট এক ছেলেকে। মেয়েটির নাম হল নানিয়া আর ছেলেটির নাম কালী।তারা একসঙ্গে দীর্ঘ দিন লিভ ইনে ছিল, তারপর ঐ বয়সে গিয়ে বিয়ে করে তারা। লিভ ইনে থাকার সময় তাদের দুটি সন্তান হয়।
এইরকমই এই গ্রামে মেয়েদের সম্পূর্ন স্বাধীনতা রয়েছে বিয়ের আগে লিভ ইন করার। আশ্চর্যজনক এই পরম্পরা রয়েছে রাজস্থানের উদয়পুরেই।সেখানে নানিয়া ও কালীর যেদিন বিয়ে হয় সেদিন তাদের সন্তানেরাও বিয়ে করে তাদের লিভ ইন পার্টনারকে। এর থেকেই বোঝা যায় সেখানে যার যতদিন খুশি লিভ ইনে থাকতে পারে। যতদিন না তাদের বিয়ে করার ইচ্ছা হবে ততদিন দিব্যি থাকতে পারে লিভ ইনে। আবার রাজস্থানেরই উদয়পুরের সিরোহী আর পালী জেলায় গরাসিয়া নামক সম্প্রদায়ের মেয়েদের বিয়ের আগেই বাচ্ছা জন্ম দেওয়ার রীতি রয়েছে।
গারাসিয়া উপজাতির মধ্যে এই প্রথা বা পরম্পরা প্রায় বিগত ১০০০ বছর ধরে চলছে।এদের লিভ ইন করার পর যদি মেয়েটির মনে হয় তার বিয়ে করা উচিত তবেই বিয়ে করে। এখানকার লোকেরা এটাই মনে করে যে একজনের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে তার জীবনসাথী বেছে নেওয়ার এবং দুই পরিবার বা অন্যান্য ব্যক্তির এই ব্যাপারে দখলদারী দেখানো উচিৎ নয়।বিয়ে করার কোন জন্য তাদের পরিবার কোন জোড় করেনা। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তারা যদি লিভ ইনে থাকে তাহলেই বাচ্ছার জন্ম হয়। আর বংশ রক্ষা করার জন্য যদি কেউ বিয়ে করে তাহলে তাটা সন্তান হয়না।
পি/ব
No comments:
Post a Comment