লেডি অব স্পাইক থর্ন' ২৭০০ খ্রিস্টপুর্ব্দের সিন্ধু সভ্যতার এক অভুতপুর্ব নিদর্শন। এটি একটি বাহনের মুর্তি। বাহনটির সামনের অংশ ষাঁড়ের মাথার আদলে বানানো। ষাঁড়টির মাথায় আঁকা প্রতীকী সূর্যের ছবি। প্রাচীন হরপ্পাদের কাছেও যে গরু পবিত্র বলে বিবেচিত হতো, তা অনুমানই করা যায়। কিন্তু বাহনটি কোনো গরুর গাড়ি, নাকি গরুর আদলে বানানো নৌযান, তা এখনো বের করতে পারেননি গবেষকরা।
এটি হরপ্পা সভ্যতায় ব্যবহার করা রথের খুদে সংস্করণ হতে পারে বলে ধারণা অনেকের। নাকি এটি একই সঙ্গে প্রাণী আর যানের এক আশ্চর্য সংমিশ্রণ তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২০০৯ সালে এক সংহাগ্রকের আমন্ত্রণ পান ইতালীয় প্রত্নতাত্ত্বিক মাসিমো ভিদালে। তাঁর ডাক পড়েছিল আশ্চর্য একটি নিদর্শন দেখতে। এটি এতটাই অদ্ভূত যে চমকে যান ভিদালে। জিনিসটি একটি যানের খুদে প্রতিকৃতি।
দেখতে কিছুটা নৌকার আবার কিছুটা রথের মতো। এর মধ্যে চারটি চাকার উপস্থিতিও চোখে পড়ে। অদ্ভুত এই যানে চড়ে আছে আবার বেশ কিছু আরোহী। ভিদালে পরীক্ষা করতেই নিশ্চিত হলেন, মূর্তিটি তৈরি খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০ সালে কিংবা তারও আগে। পরবর্তী সময়ে এটা নিয়ে আরো গবেষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভিদালেসহ অন্য গবেষকরা নিশ্চিত হন-এটা ভারতীয় উপমহাদেশে সিন্ধু সভ্যতার অংশ যা হরপ্পা সভ্যতা হিসেবেও পরিচিত। এটার অবস্থান ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে।
বর্তমানে যা পাকিস্তান, আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্ব দিক ও ভারতের উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। তবে সিন্ধু সভ্যতায় এমন কোনো যান ব্যবহারের আর কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। সব মিলিয়ে ১৫টি মানুষের মূর্তি আছে এতে। দেখে মনে হবে যেন অদ্ভুত যানটিতে চড়ে কোথাও চলেছে তারা। আর বাহনটির একদম শেষ মাথায় খাঁজকাটা একটি সিংহাসনে বসে আছে এক নারী।
আর এ থেকেই এই নিদর্শনটির নাম হয়ে যায় 'লেডি অব স্পাইক থর্ন'। তার চারপাশে হাতিয়ারসহ দাঁড়িয়ে চার প্রহরী। বাহনের কিছু কিছু পুরুষের গায়ে নানা ধরনের অলংকার চোখে পড়ে। তবে নিদর্শনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হচ্ছে, এর কাঁটার সিংহাসনে বসা রানির মূর্তিটি। অন্যান্য মূর্তির চেয়ে আকারে এটি সামান্য বড় এবং বসেও আছেন উঁচু স্থানে। চারপাশে দাঁড়ানো প্রহরী বুঝিয়ে দিচ্ছে তাঁর গুরুত্ব।
পি/ব
No comments:
Post a Comment