শোভন বৈশাখী বিজেপিতে, এরপর কারা ? দেখুন যোগদানের ছক - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 14 August 2019

শোভন বৈশাখী বিজেপিতে, এরপর কারা ? দেখুন যোগদানের ছক





কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সিকিমের ছবি বাংলার রাজনীতিতেও। তৃণমূল থেকে আসা কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত সদস্যরা যখন বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরছে তখন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি যোগের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক দল বদলের পট পরিবর্তন। বুধবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বিজেপির সদর দফতর দিল্লীর অফিসে শোভন বৈশাখী যুগল বিজেপিতে যোগ দেন।


এদিন যখন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি যোগদান করছেন তখন নিজের বাড়ি বসে হাসছিলেন শোভন পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়। পরে রত্না চট্টোপাধ্যায় এবিপি আনন্দকে বলেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় অনৈতিক জীবন যাপন করছেন। তাকেই বিজেপি নিল। নীতি কথা বলা বিজেপি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ঠিক মনে করল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনকে সংসারে ফিরতে বলেছিল। শোভনের অনৈতিক জীবনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন করেনি। বিজেপি সমর্থন করছে বলেই শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে গেছে।

শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের আরও অনেকেই বিজেপিতে যোগ দেবেন। সংখ্যাটা প্রকাশ্যে আসেনি। এমনকি যোগদান সময়ের কিছু আগে জানা যাবে কে কখন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। বিজেপি এতটাই গোপনীয়তার সাথে এই যোগদান করাবে।

এ প্রসঙ্গে দৈনিক যুগশঙ্খ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে,
বাম তৃণমূল ছেড়ে বিরাট সংখ্যক বিধায়ক ধাপে ধাপে যোগ দেবে বিজেপিতে। মঙ্গলবার বারাসতে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে এসে রুদ্ধদ্বার কর্মী বৈঠকে কর্মীদের এভাবেই চাঙ্গা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষ। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসে বিভিন্ন পুরসভা পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের যখন ফের তৃণমূলে ফেরার হিড়িক তখন দীলিপ ঘোষের দাবি সত্যি হলে তো বদলে যাবে বাংলার বিরাট সংখ্যক বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিকদের ভবিষ্যৎ। বিজেপি কি তাহলে এই ছক কষেছিল?


বিজেপির সদস্যতা সংগ্রহ কার্যত দিদিকে বলো কর্মসূচিকে টেক্কা দিয়েছে। এমন দাবি করে এক রাজ্য নেতার ব্যাখ্যা, তৃণমূলের বিধায়করা দিদিকে বলো কর্মসূচিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ছে। আর বিজেপির সদস্যতা বাড়ছে। ছক তো আছে তবে তার থেকে বেশি কাজ করছে আবেগ। বামেদের তরুণ প্রজন্ম এখন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। আরএসএস এর কার্যকর্তাদের মিটিংএ যোগ দিচ্ছে। শুধু বাম নেতৃত্ব নয় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরাও তা পরিস্কার বুঝতে পারছে। বাম থেকে আসারা পদ নয় কাজ করতে চাইছে। করছেও। সদস্য বৃদ্ধি থেকে সংগঠনের দেখাশোনার কাজে বাম থেকে আসারা মন দিয়ে করছে।

এদিন দীলিপ ঘোষের বৈঠকে যোগ দেওয়া কর্মীদের মধ্যে বাম থেকে আসাদের সংখ্যা পুরানো বিজেপির থেকে খুব একটা কম ছিল না। দীলিপ ঘোষ বলেন বারাসতে নতুন করে সদস্য হয়েছে দুই লাখ। সংখ্যাটা চার লাখ করতে হবে। সবার বাড়ি বাড়ি যান। আপনার এলাকার বাসিন্দারা কেউ বাম, কেউ তৃণমূলের চামড়া পরে আছে। চামড়া সরিয়ে দেখুন সবাই গেরুয়া। অপেক্ষা করুন কিছুদিনের মধ্যে সিকিমের মত বহু বাম তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে আসবে।

বারাকপুর বনগাঁ লোকসভা সহ রাজ্যের বিভিন্ন লোকসভা এলাকার পুরসভা পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিরা বিজেপি থেকে ফের ফিরে যাচ্ছে তৃণমূলে। তখন দীলিপ বাবুর এই দাবি কতটা কতটা যৌক্তিক ?


এই ফেরত যাওয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের দীলিপ ঘোষ বলেন , 'যে কাউন্সিলররা তৃণমূল থেকে আমাদের দলে এসেছিলেন, তাঁরা এখানে টাকা কামাতে পারছেন না। ক্ষমতাও ভোগ করতে পারছেন না। তাই তারা ক্ষমতা ও টাকা কামানোর জন্য আবার তৃণমূলে ফিরে যাচ্ছেন।' তারপরই মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদের মন্তব্য, 'বিজেপিতে আসার জন্য লাইন লেগে গিয়েছে। আমরা এখন থেকে বেছে বেছে দলে নেব।'

অর্থাৎ , কাটমানি আর দলবদল করা রাজনীতিকদের ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকার। দীলিপ ঘোষ কর্মীদের এ প্রসঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বলেন, বিভিন্ন দলের সচ্ছ নেতা জনপ্রতিনিধিদের বিজেপিতে নেওয়া হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের সচ্ছ প্রমাণ করে আসতে হবে।

দুর্গাপুজোয় আয়কর নোটিস ধরানো প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, 'দুর্গাপুজোয় চিটফান্ডের টাকা ছিল। তাই, সেই সব ক্লাবকে আয়কর নোটিস ধরানো হয়েছে। কিন্তু পুজোয় কোনও বাধা দেওয়া হবে না। আয়কর নোটিস নিয়ে সব চেয়ে বেশি চিৎকার করছেন দিদি ও তার চারপাশের কিছু লোক । তার অর্থ ডাল মে কুছ কি কালা হ্যায়?'

2021 এর আগে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে বিজেপি ফেলতে পারবে কি না প্রশ্নে দীলিপ ঘোষের ব্যাখ্যা , 'শাসক দল ভয় পেয়েছে। তাই পুরসভা ও কলেজের ছাত্র সংসদ ভোট করাচ্ছে না। যেখানেই ভোট হচ্ছে, সেখানেই বিজেপি জিতছে। আমাদের শেখানো পদ্ধতি প্রশান্ত কিশোর ওদের শেখাচ্ছে। তাতে কোনও লাভ হবে না। এক গাছের ছাল আরেক গাছে লাগে না।'

এদিন দিলীপ ঘোষের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন বাগদার বিধায়ক দুলাল বর, বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শংকর চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যরা। সেখানে কর্মীদের সঙ্গে দিলীপ একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad