গত চারদিনে দেগঙ্গায় ৩ জনের মৃত্যু অজানা জ্বরে।এবারও সেই আমুলিয়া পঞ্চায়েত।আজ ভোরে বারাসত হাসপাতালে মৃত্যু হয় নাজিরা বিবি(২৮) নামে এক মহিলার। পরিবারের দাবি,বেশ কিছুদিন ধরেই সে জ্বরে ভুগছিলেন।রক্ত পরীক্ষাও করা হয়েছিল তাঁর। কিন্তু, হাসপাতাল থেকে সেই রক্তের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।এরই মধ্যে ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভর্তি করা হয় বারাসত হাসপাতালে।সেখানেই আজ ভোরে মৃত্যু হয় নাজিরার।ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েই ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে মৃতার পরিবার। যদিও ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারন হিসাবে সেপসিসের উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে,ওই মহিলার বাড়ি আমুলিয়া পঞ্চায়েতের সন্ধি পুকুর গ্রামে।গত ৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন নাজিরা। সঙ্গে ছিল মাথা যন্ত্রনাও।
স্থানীয় চিকিৎসককে দেখিয়েও তাঁর জ্বর না কমায় শেষে দেগঙ্গার বিশ্বনাথপুর হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষা করায়। কিন্তু,সেই রক্তের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। গতকাল থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।এরপর, দুপুরের দিকে তাকে ভর্তি করা হয় বারাসত হাসপাতালে।শনিবার এই আমুলিয়া পঞ্চায়েতেরই বাসিন্দা শিবানী দে(৩৫) নামে এক বধূর অজানা জ্বরে মৃত্যু হয়েছিল।তার একদিন আগে ওই পঞ্চায়েত এলাকারই যুবক মিঠুন দাসের মৃত্যু হয়েছিল অজানা জ্বরে।তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও অজানা জ্বরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এদিকে, অজানা জ্বরে মৃত্যুর ঘটনা ক্রমশ বাড়ায় ২০১৭ সালের স্মৃতি উস্কে দিল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়।সে বছর দেগঙ্গায় ১ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিল।
ডেঙ্গি ও অজানা জ্বরে মারা গিয়েছিল বহু মানুষ।তবে,২০১৮ সালে এবিষয়ে প্রশাসন প্রথম থেকেই জোর দেওয়ায় তা আটকানো গিয়েছিল।এবার সেই অজানা জ্বরের আতঙ্ক ফিরে আসল দেগঙ্গায়। গ্রামবাসীদের কথায়,"অজানা জ্বরে বহু মানুষ আক্রান্ত এখানে। সেই তুলনায় চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না বিশ্বনাথপুর গ্রামীন হাসপাতালে। এখনই যদি প্রশাসন এর মোকাবিলায় তৎপর না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারন করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীরা। যদিও,এর মোকাবিলায় সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যে, আশা কর্মী থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের কাজে লাগানো হয়েছে। তাঁরাই বাড়ি বাড়ি ঘুরে সাধারন মানুষকে সচেতন করছে। এবিষয়ে সাধারন মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

No comments:
Post a Comment