সাত দশক পর রক্তাক্ত কাশ্মীর মুক্তি পেল আজ - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 5 August 2019

সাত দশক পর রক্তাক্ত কাশ্মীর মুক্তি পেল আজ


জম্মু ও কাশ্মীর  নিয়ে এবার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। বাতিল করা হল সংবিধানের ৩৭০ ধারা।  জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া ৩৭০ ধারা (Article 370) বাতিলের কথা সোমবার সংসদের দাঁড়িয়ে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার সকালেই তাঁর বাসভবনে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক করেন। তারপরেই ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা হয়। জম্মু ও কাশ্মীরকে "পুনর্গঠন" করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এখন থেকে আর রাজ্য নয় এটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। পাশাপাশি লাদাখকেও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করল কেন্দ্র।  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন বিধানসভা ছাড়াই একটি স্বতন্ত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে লাদাখ আর জম্মু ও কাশ্মীরকেও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করলেও সেখানে বিধানসভা থাকবে। পাশাপাশি দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই  দু'জন লেফটেন্যান্ট গভর্নর থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার সকালেই তাঁর বাসভবনে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক করেন। তারপরেই ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা হয়।সংবিধানের ৩৭০ ধারাটি (Article 370) একটি 'অস্থায়ী বিধান' যা জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেয়।






ফ্ল্যাশব্যাক :


পুলওয়ামা হামলায় ৪৪সেনার শহীদের পর দেশের শিক্ষিতরা " শহীদ " আখ্যা দেওয়ার বিরোধীতা করেছেন। রাজনীতিকরা বলছেন , এক সাথে এত সিআরপিএফ সেনাকে কেন বের করা হল। বন্ধ হোক যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। এপিডিআর রা পথে নেমে যুদ্ধ নয় শান্তি চাই মিছিল করছেন। যাদবপুরের পড়ুয়ারাও কাশ্মীর বাসিন্দাদের দাবিকে মান্যতা দেওয়ার দাবি তুলে মিছিল করছেন। উল্টো দিকে আরেক দল মানুষ " দেশভক্তি " র নামে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছে। ছবিগুলো পাশাপাশি রাখলে হামলা বাদ দিয়ে গোটা ঘটনায় আদতে রাজনীতির গন্ধ ভরপুর ।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য( তদন্ত ছাড়াই কারোর নামে দোষ দেওয়া ঠিক না এবং ' আমার সন্দেহ আছে এবং অবাক হচ্ছি যে নির্বাচনের ঠিক আগেই পুলওয়ামা হামলার ঘটনা ঘটল। এই ঘটনা রুখতে কেন আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া হল না ?' তাঁর প্রশ্ন ' পাঁচ বছর হয়ে গেল কোন কিছুই ঘটল না। যখন নির্বাচন কড়া নাড়ছে তখন আপনার মনে হল আরেকটা যুদ্ধ করা দরকার। আবার মানুষের জীবন নিয়ে খেলা দরকার। '
) নিয়ে প্রতিবেদনের কপি ইমেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট করে অসংখ্য মানুষ দাবি করছেন বিজেপি /মোদী/আরএসএস এর খেলা।

তর্কের খাতিরে ঠিক ধরে নিলে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে আসে। বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , পুলওয়ামা ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই পাকিস্তান সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং রুটমার্চ করেছে। হামলার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী ও সেনা কর্তাদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয় যে , পাকিস্তান জেনে বুঝে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে।
পুলওয়ামা হামলার পর তড়িঘড়ি পাকিস্তান বিবৃতি দিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে আক্রমণ করল। এত দ্রুত এর আগে পাকিস্তান কোনও ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
জইশ ই মহম্মদ এবং হামলাকারীর ভিডিও বিবৃতি পরিস্কার পাকিস্তান মদত দাতা এবং আশ্রয় স্থল। প্রসঙ্গতঃ আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের নায়ক ওসামা বিন লাদেনের আশ্রয় ভূমি ছিল পাকিস্তান এবং তাকে খতম করা হয় পাকিস্তানের মাটিতে। জইশ আরও জানিয়েছে তারা এখন থেকে ভারতে হামলার জন্য ভারতীয়দেরই কাজে লাগাবেন। পুলওয়ামা দিয়ে যার সুচনা করা হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা দাবি করেছে , জইশ প্রধান মাসুদ আজাহার লাহোরে সেনা হাসপাতালে। সেখান থেকেই হামলার নির্দেশ আসে। পাকিস্তানের তরফে ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি নিয়ে কোনও বিবৃতি নেই। এদিকে পুলওয়ামা ঘটনার পর পাকিস্তানের পন্য শুল্ক দুশো গুন বাড়ানো থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে কোণ ঠাসা করেছে মোদী সরকার।


মোদী / বিজেপি / আরএসএস এই হামলার রাজনীতি করে থাকলে এই চক্রান্তের সাথে জড়িত পাক সেনা , আইএসআই। নইলে তো সম্ভব নয়। কোনও দেশের সেনা/ গোয়েন্দা সংস্থা / দেশপ্রেমী জঙ্গি গোষ্ঠী কি নিজের দেশের অর্থনীতির ক্ষতি , আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের দেশকে কোণঠাসা করতে অন্য দেশের সাথে হাত মেলাবেন ? জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি টুইটে বলেছেন , পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আরেকবার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। কারণ , সম্প্রতি ইমরান খান দেশের দ্বায়িত্ব নিয়েছেন । অতএব পরিস্কার পাকিস্তান জড়িত।
এবার আসি কাশ্মীরে। স্বাধীনতার পর গত সাত দশক ধরে কাশ্মীর নিয়ে হাজারো সেনা , সাধারণ মানুষ , জঙ্গির প্রাণ ঝরেছে। সেখানকার পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও তৈরি হয়েছে জঙ্গি। রোষ তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর। কেন ভারত সরকার জম্মু কাশ্মীরের ক্ষোভ মেটাতে ব্যর্থ। এসবের জন্য দায়ি হলেন , ততকালিন প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহেরু নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। এক দেশে দু ' ধরনের নিয়ম আইন সরকার ও সংবিধান করেছেন। যা সমাধানের জন্য দেশের সত্তর বছরের ইতিহাসে ৫৫বছর শাসন করা কংগ্রেস এবং বাকিরা চেষ্টা করেনি। বিজেপি তাদের ভোট ম্যানুফেষ্টতে সংবিধানের ৩৭০ধারা সংশোধনের কথা বললেও রাজ্য সভায় এবং সংসদে দূর্বলতার কারণে তা সফল করতে পারেনি।
কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত হল ভারতীয় ভূখণ্ড। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্লোগানে একথা বলে থাকেন। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এক ভারত।
কাশ্মীর অশান্তির পিছনে রয়েছে কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ দরজা। সংবিধানের ৩৭০ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। যা সংবিধানের ৩৫এ অনুচ্ছেদের সাথে মেলে। সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের বাইরে দেশের কোনও এলাকা বা রাজ্যের নাগরিক সেখানে কোনও সম্পত্তি কিনতে পারবেনা। অথচ , কাশ্মীরের নাগরিক দেশের সর্বত্র সম্পত্তি কিনতে পারবে। জম্মু কাশ্মীরকে দেওয়া এই বিশেষ অধিকারই কাশ্মীর অশান্তির মূল কারণ। সংবিধানের এই দুই অনুচ্ছেদ দেশের জাতীয়তাবাদ , অখন্ডতায় হিংসার অসুখের চেহারা নিয়েছে।
১৪মে ১৯৫৪সালে ততকালিন রাষ্ট্রপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ এক আদেশ প্রয়োগ করেন। ওই সময় সংবিধানে নতুন অনুচ্ছেদ ৩৫এ জুড়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী সংবিধানে নতুন অনুচ্ছেদ সংযোগ করতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় হল সংবিধান সংশোধন না করেই ৩৫এ নতুন অনুচ্ছেদ জুড়ে দেওয়া হয় সংবিধানে। ততকালিন প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহেরু এই অনুচ্ছেদ সংসদে পেশ না করে সরাসরি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেন। আর রাষ্ট্রপতি স্যার রাজেন্দ্র প্রসাদ ৩৬৮অনুচ্ছেদকে গুরুত্ব না দেওয়া নতুন অনুচ্ছেদ সরাসরি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ হিসেবে জারি করে লাঘু করে দেন।
৩৫এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীরের নাগরিক হতে গেলে তাকে সেখানেই জন্ম গ্রহণ করতে হবে। যদি কেউ কাশ্মীরের মাটিতে না জন্মান তাহলে তিনি সেখানকার নাগরিক হতে পারবেন না। ফলে দেশের কোনও রাজ্যের নাগরিক জম্মু কাশ্মীরের নাগরিক হিসেবে সেখানে বসবাস এবং যে কোনও অধিকার পাবেন না।


প্রশ্ন হল কাশ্মীরের স্হায়ী নাগরিক কে ? ১৯৫৬সালে জম্মু কাশ্মীরের সংবিধান রচিত হয়। আর ৫৭সালে সংবিধান চালু হয়। জম্মু কাশ্মীরের সংবিধান রচনার সময় বলা হয় ১৪মে ১৯৫৪ সাল বা তার ১০বছর আগে থেকে বসবাস করছেন এবং তার সম্পত্তি আছে যাদের তারাই নাগরিক । অর্থাত্‍ যে বাসিন্দারা ১৯৪৪থেকে থেকে ৫৬সাল পর্যন্ত বসবাস করেছেন , সম্পত্তি কিনেছেন এবং এই সময়ে জন্মেছেন তিনি হলেন জম্মু কাশ্মীরের নাগরিক। ফলে এক দেশে তৈরি হল দু ' ধরনের নাগরিক। ফলে দেশের যে কোনও রাজ্য শহরে কাশ্মীরীরা সমস্ত অধিকার পাবেন। অথচ , দেশের কোনও রাজ্য শহরের বাসিন্দা কাশ্মীরে কোনও অধিকার পাবেন না।
সংবিধানের ৩৫এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গত কয়েক দশক ধরে বহু মানুষ সেখানে অধিকার বিহীন ভাবে বসবাস করছেন। ফলে স্বাধীনতার এতটা দশক পরও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪৭সালে দেশ ভাগের সময় আসা বহু হিন্দু শ্মরনার্থী আজও শেওলার মত ভাসছেন। খতিয়ান অনুযায়ী ৪৭সালে জম্মুতে পাঁচ হাজার ৭৬৪হিন্দু পরিবার আসে। এই পরিবার গুলির ৮৫%দলিত সম্প্রদায়ের। এই পরিবার গুলির আজও রাজ্যের নাগরিকত্ব মেলেনি। ৩৫এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই লোকগুলো সব ধরনের সরকারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এমনকি পরিবারগুলির ছেলে মেয়েরা সরকারী স্কুলে পড়া এবং সরকারী হাসপাতালে চিকিত্‍সা পরিষেবা নিতে পারে না সেই ৪৭সাল থেকে । এই শ্মরনার্থীরা লোকসভা ভোটে ভোট দিতে পারলেও জম্মু কাশ্মীরের রাজ্য সরকার এবং পঞ্চায়েত পুরসভার কোনও ভোটে অংশ নিতে পারে না।পাশাপাশি, ৩৫এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাশ্মীরের কোনও মেয়ে রাজ্যের বাইরের কোনও ছেলেকে বিয়ে করলে তাকে সমস্ত অধিকার হারাতে হয়। এমনকি ওই কাশ্মীরী মেয়ের সন্তানরাও কোনও অধিকার পায় না।
আজ কাশ্মীরের এই হিংসার অন্যতম কারণগুলির একটি হল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০।স্বাধীনতার সময় কাশ্মীরের জন্য স্পেশাল কিছু নিয়ম দেওয়া হয় যা আজও বলবত। যার বিরোধীতা করলেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সরকার আরএসএস , বিজেপি তকমা জোর করে চাপিয়ে পুলিশ দিয়ে ঠান্ডা করা হয় বলে অভিযোগ ।অথচ তারা জম্মু কাশ্মীরের সমস্যা সমাধান বা এক দেশে দু ' ধরনের নিয়ম প্রথা ভাঙতে সংবিধান সংশোধনের দাবি তুলছেন না।
৩৭০অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারত সরকারের কেবল মাত্র আইন প্রয়োগ , প্রশাসনিক রক্ষা , বৈদেশিক বিষয়ক সহ রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে। এমনকি রাষ্ট্রপতির কাছে জম্মু কাশ্মীরের সংবিধান বরখাস্ত করার অধিকার নেই। জম্মু কাশ্মীরের রাজ্য বিধি দেশের রাষ্ট্র বিধির থেকে আলাদা। জম্মু কাশ্মীরের বিধানসভার মেয়াদ ছয় বছর। অথচ , গোটা দেশে এই মেয়াদ পাঁচ বছর। এমনকি জম্মু কাশ্মীরের মাটিতে দেশের রাষ্ট্রপতিকে অপমান , অবমাননা করা অপরাধ নয়। এছাড়াও দেশের কোনও আইন জম্মু কাশ্মীরে লাঘু করা যায় না। জম্মু কাশ্মীরের হিন্দু ও শিখদের কোনও অধিকার নেই। উল্টোদিকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ধারা অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীরের নাগরিকদের দ্বৈত নাগরিকত্ব মেলে। এক, জম্মু কাশ্মীরের। দুই, দেশের।
জম্মু কাশ্মীরে আইপিসি অর্থাত্‍ ইন্ডিয়ান পিনাল কোড নয় আরপিসি অর্থাত্‍ রনবির পিনাল কোড লাঘু করা আছে। সারা দেশে আইন বিচার চলে আইপিসি ধারায়। সেখানে জম্মু কাশ্মীরে চলে আরপিসি ধারায়। ৪৭সালে দেশ ভাগ ও স্বাধীনতার পর কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর বড় ভুল হয়েছিল। এমনকি গত ৭০বছরে দেশের কোনও প্রধানমন্ত্রী , কোনও জাতীয় ও আঞ্চলিক দল কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখাননি। ফলে আজও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ধারা ও ৩৫এ আজও লাঘু আছে। কোনও সরকার এই দুই অনুচ্ছেদ সরাতে পারেনি। অথচ ভারতীয় নাগরিকরা এই অনুচ্ছেদ দুটি মন থেকে মানেন না। ভারতীয়রা জানে গোটা কাশ্মীর তাদের। যদিও কাশ্মীরের কিছু অংশ পাকিস্তানের। দেশবাসী এটাও মানতে চাননা।সবমিলিয়ে কাশ্মীরের মুল জটিলতা হল ৩৭০ ধারা।
ভারতীয় জন সংঘের সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহেরু ও ফারুক আব্দুল্লার এই নীতি সিদ্ধান্তের কড়া বিরোধীতা করেছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন , এক দেশের দু ' রকম নীতি , দু ' রকম বিধান চলতে পারেনা। ওই সময় ৩৭০ধারায় এটাও ছিল যে , কোনও ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া কাশ্মীরে ঢুকতে পারবেনা। অর্থাত্‍ জম্মু কাশ্মীরের বাইরের কোনও ভারতীয় অবাধে সেখানে ঢুকতে পারবে না। উল্টো দিকে জন্মু কাশ্মীরের নাগরিকরা দেশের সর্বত্র সব অধিকার ভোগ করতে পারবে। ওই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই নীতির বিরোধীতা করে জম্মু কাশ্মীরে প্রবেশ করেন। তখন শ্রীনগরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১৯৫৩ সালের ১৩জুন রহস্যময় মৃত্যু হয়।
পুলওয়ামা হানার পর দেশের বহু সচেতন মানুষ দাবি তুলেছেন কবে অনুচ্ছেদ ৩৭০ধারার সমাধান করতে হবে। অথচ, কিছু মানুষ তাদের রাজনৈতিক আদর্শ , ভোট ব্যাংকের দিকে তাকিয়ে ৩৭০ ধারার সমস্যার কথা বলছেন না। অনেকে আবার কাশ্মীরের সাধারণ নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলছেন সরকারকে।তবে , কেউ বলছেন না কাশ্মীরে শান্তি ফেরাতে সংসদে অধিবেশন ডেকে সংবিধান সংশোধন করা হোক।
এদিকে অনুচ্ছেদ ৩৫এ সমাধানের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে মামলা পৌঁছেছে। যদি ৩৫এ অনুচ্ছেদ বিলোপ হয় তাহলে অনুচ্ছেদ ৩৭০ ধারা দূর্বল হয়ে পড়বে। অনুচ্ছেদ ৩৭০ধারা বিলোপ করার পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন , প্রথমে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধানকে শক্তি দেয় ৩৬৮অনুচ্ছেদ।এই ধারার মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব সংবিধানে যোগ করা যায় ও বিলোপ করা যায়। এক্ষেত্রে লোকসভা এবং রাজ্যসভার দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার। তবে সংসদে বিল পেশের সময় উপস্থিতির হার হতে হবে ৫০%বেশি। এদিকে ভোট হতে হাতে সময় মাত্র দুমাস। ভোটের আগে ৩৭০ সমাধান করতে গেলে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে হবে। বিজেপি ফি লোকসভা ভোটে নাগরিকত্ব , রামন্দির ও ৩৭০ধারা সমাধানের কথা ভোটের ইশতেহারে লেখে।বিজেপির দাবি, মোদী সরকার রাজ্যসভায় দূর্বল হওয়ায় তা পারেনি। দেশের জন দরদী , সংখ্যা লঘু মুসলিম দরদী হয়ে রাজনীতি করছে। পথে নামছে তবে বলছে না বিশেষ অধিবেশন ডেকে ৩৭০ধারার সমস্যা সমাধান করে কাশ্মীরে শান্তি ফেরানো হোক। এক দেশ এক সংবিধান করা হোক।

সত্যজিত চক্রবর্তীর ওয়াল থেকে নেওয়া।

সুত্র : ডিএনএ ইন্ডিয়া

লেখার দায় সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব , প্রেসকার্ড নিউজ ডট কম এর নয়। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad