ভারাতের একটি সর্বাধিক জনপ্রিয় ট্রেকিং হল রূপকুণ্ড৷ স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী এটি একটি রহস্যময় হিমবাহ হ্রদ৷ এই হ্রদের কিনারায় পাওয়া শত শত মানব কঙ্কালের কারণে মানুষের কাছে এই স্থানটি আরও বিখ্যাত এবং রহস্যময় হয়ে উঠেছে। ত্রিশূল চৌখাম্বার মতো পর্বত শৃঙ্গ এই ট্রেকিং-এর গুরুত্ব বৃদ্ধি করে৷ এর সর্বাধিক উচ্চতা ১৬,৪০০ ফুট। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ট্রেকিং-এ যাওয়া যায়৷ যেমন- অ্যাডভেঞ্চার নেশন, ইন্ডিয়া হিক্স, হিমালায়ান ট্রেকারস এদের মধ্যে অন্যতম। এই ধরনের সংস্থাগুলি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ট্রেকিং-এর দায়িত্ব পালন করে থাকে। লোহাজুঙ-এর উচ্চতা প্রায় ৭,৫০০ ফুট৷ ৷
যেমন, ট্রেকিং চলাকালীন সবাই গাইডের পরামর্শ মেনে চলা৷ কেউ কোনও রকম অসুস্থতাবোধ করলে, তৎক্ষণাৎ গাইডকে জানানো৷ সবাই যেন মেডিসিন এবং পানীয় জল বহন করে৷ এছাড়াও আমাদের আরও বলা হল যে আজকের পর থেকে আমরা তাবুতে স্লিপিং ব্যাগের ভেতরে শোবো ইত্যাদি৷ এখানে যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই রয়েছে প্রকৃতির অপূর্ব মাধুর্য৷ সবুজ আর সবুজ৷ আবার কোথাও মনে হবে যেন উইন্ডোজ এক্সপির মধ্যে চলাফেরা করছিল, দেখা যাবে সূর্যের লুকোচুরি খেলা৷ আর যদি তারই মধ্যে শুরু হয়ে যায় তুষারপাত তাহলে তো আর কথাই নেই৷ সে যে কী অপরূপ দৃশ্য, চোখে না দেখলে কল্পনা করতে পারবেন না৷
কোথাও আবার সু-বিশাল জলপ্রপাত মনকে মুগ্ধ করে। তার সামনেই দেখতে পাবেন সু-বিশাল পর্বতশৃঙ্গ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে৷ এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্বতশৃঙ্গ হল ত্রিশূল, নন্দ ঘুন্তি, চৌখম্বা রেঞ্জ। প্রকৃতির ইচ্ছায় আমরা আরও একটি ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সাক্ষী ছিলাম৷ সেটি হল মেঘ বিস্ফোরণ৷ আমাদের ট্রেকিং-এর সপ্তম দিনে ঘটল এই বিপর্যয়৷ অর্থাৎ বাবুই বাসা থেকে রূপকুণ্ড যাওয়ার পথে।
সেখানে রুপকুন্ডে পৌঁছে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠবেন। আরও রোমহর্ষক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েযাবে, যখন ওখানে দেখেবেন শত শত নর কঙ্কাল হ্রদের আশেপাশে ছড়িয়ে আছে।রূপকুণ্ড থেকে আরও ২১০ মিটার উঁচুতে যে ভিউ পয়েন্ট রয়েছে তার নাম জুনারগালি৷ এই স্থান থেকে ত্রিশূল-সহ বিভিন্ন পর্বতশৃঙ্গের মনোরম দৃশ্য উপলব্ধি করা যায়।
এবার দেখে নেওয়া যাক ট্র্যাকিংয়ের খুঁটিনাটি:- কিভাবে যাবেন- কলকাতা থেকে কাঠগোদাম যাওয়ার সরাসরি খুব বেশি ট্রেন নেই৷ কিন্তু যদি দিল্লি হয়ে যাওয়া যায়, তাহলে অনেক রকম ট্রেন এর সুবিধা রয়েছে৷ আর ফ্লাইটে গেলে, তাহলে কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত ফ্লাইট৷ তারপর দিল্লি থেকে ট্রেনে কাঠগোদাম।
কোথায় থাকবেন- যে সংস্থার মাধ্যমে ট্রেকিং করা হচ্ছে সেই সংস্থায় সমস্ত কিছু ব্যবস্থা করে দেয়। খরচ- সবকিছু মিলিয়ে মোটামুটি খরচ হতে পারে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। প্রয়োজনীয় সামগ্রী- রুকসাক ব্যাগ (৫০লিটার), টর্চ, হেড ল্যাম্প, একটি উইন্ড প্রুফ জ্যাকেট, ট্রেকিং জুতো, ওয়াটারপ্রুফ গ্লাভস, উলেন গ্লাভস, মোজা বাঁদুরে টুপি, তাপ পরিধান, জলের বোতল, ডাউন জ্যাকেট, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র (ORS, norflox tz, Diamox etc), সানগ্লাস, ট্র্যাক প্যান্ট। (Decathlon নামক এই সংস্থাটি থেকে ট্রেকিং এর সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় বস্তু পাওয়া যায়)
পি/ব
No comments:
Post a Comment