অফুরন্ত সম্পদের উৎস পৃথিবীর মহাসমুদ্রগুলো। তবে এই সম্পদ শুধু তলদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, কাজে লাগাতে পারলে শুধুমাত্র আটলান্টিকের বায়ু শক্তিতেই পৃথিবীর তাবৎ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
৯ অক্টোবর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত ওই গবেষণা নিবন্ধে এমনটা দাবি করা হয়।
এখন পর্যন্ত বায়ু শক্তি দিয়ে যতটুকু বিদ্যুৎ তৈরি হয় তার পুরোটাই হয় স্থলভাগে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি ইন্সটিটিউট ফর সায়েন্সের গবেষকরা জানাচ্ছেন, স্থলভাগের বাতাসের চেয়ে খোলা সাগরের উইন্ড টারবাইন থেকে পাঁচ গুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
তবে এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। ভিন্ন ঋতুতে বাতাসের গতিতে হেরফের হওয়ায় বিদ্যুৎও সমান পাওয়া যাবে না। এখন পর্যন্ত বায়ু শক্তি দিয়ে যত বিদ্যুৎ তৈরি হয় তার সবই স্থলভাগে। খোলা সাগরে অতিকায় টারবাইন স্থাপন করাও চ্যালেঞ্জিং কাজ। তবু বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাগরে উইন্ড টারবাইন স্থাপন আখেরে লাভজনকই হবে।
ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সের এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, শীতকালে উত্তর আটলান্টিকের বায়ু শক্তি কাজে লাগানো গেলে তা দিয়ে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে তা সারা পৃথিবীর জন্য যথেষ্ট। তবে গ্রীষ্মকালে সেই বিদ্যুৎ দিয়ে কোনোরকমে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে বায়ু শক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে কানসাসের উইন্ড টারবাইনের সাথে আটলান্টিকের বায়ু শক্তির তুলনা করে এই ফলাফল উপস্থাপন করেছেন।

No comments:
Post a Comment